Jantar Mantar Protest

যন্তরমন্তরে ধুন্ধুমার, দু’ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্ত রাহুল গাঁধী, উত্তাল দিল্লির রাজপথ!

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তরমন্তরে বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায়। রাহুল গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। প্রায় দু’ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৪

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে বুধবার দিল্লির যন্তরমন্তরে চরম উত্তেজনা ছড়াল। ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের নিয়ে যন্তরমন্তরের দিকে যাওয়ার সময় আটক করা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। প্রায় দু’ঘণ্টা পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। গোটা ঘটনায় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একাধিকবার ধস্তাধস্তি ও বচসা হয়।

এ দিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের ডাকে দিল্লির সাগর রত্না রেস্তরাঁয় বৈঠকে বসেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। যন্তরমন্তর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের ওই এলাকায় আগে থেকেই বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল ব্যারিকেড। জারি ছিল বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা, যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল।

বৈঠক শেষে খড়্গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী সাংসদরা বাসে করে যন্তরমন্তরের দিকে রওনা দেন। বাস আটকে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম। তাঁর দাবি, বাসটির প্রয়োজনীয় অনুমতি ও চালকের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। এরপর যন্তরমন্তরের কাছে পৌঁছতেই কংগ্রেস কর্মীদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ।

বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিকের বচসাও হয়। পরে তাঁকে আটক করে একটি বাসে তোলা হয়। জানা যায়, তাঁকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পরে সেই বাসের চাকা ফুটো করে দেন কংগ্রেস কর্মীরা বলে অভিযোগ। এরপর অন্য বাসে রাহুলকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।

অন্য দিকে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার অভিযোগ, মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁকে একাধিক জায়গায় আঁচড়ে দিয়েছেন এবং মাটিতে ফেলে সরানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি রাস্তায় মাটিতে শুয়েও প্রতিবাদ জানান।

খড়্গে বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কংগ্রেস এবং বিরোধীরা গ্রেফতার বা মামলার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত। রাহুলের অভিযোগ, বিরোধী সাংসদদের তিন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আরও এফআইআর হলেও তিনি ভয় পাবেন না।

প্রায় দু’ঘণ্টা আটকের পর শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান রাহুল গান্ধী। তবে যন্তরমন্তরের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।


Share