ByElection

মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না রবিউল, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবার সিদ্ধান্ত বদল, রেজিনগর উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়

বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, “ওরা পাল্টিবাজের দল। রেজিনগরের মানুষ শিল্প চায়। শান্তিতে থাকতে চায়। রাজ‍্য সরকার যে উন্নয়ন করছে, তার সাথেই যেতে চায়। তাই মানুষ বিজেপিকেই চাইছে।”

রবিউল আলম চৌধুরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১২

বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে নাকট অব‍্যাহত। মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি। তিনি শনিবার থেকেই প্রচারে নামবেন বলে জানিয়েছেন। দলীয় কর্মীদের প্রতীক চেনানোর দায়ীত্ব নিজেই নেবেন বলে জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি জানিয়েছিলেন, তিনি উপনির্বাচনে লড়বেন না। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। রবিউলের বক্তব্য ছিল, নতুন প্রতীক নিয়ে কর্মী, সমর্থকদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক চেনাতে অসুবিধা হচ্ছে। এত কম সময়ে প্রতীক চেনানো কার্যত অসম্ভব। তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রবিউলের ওপরে প্রশাসনিক চাপ না থাকলে তাঁর অভিযোগ, অনেক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ভাবে নির্বাচনে লড়াই করা কার্যত অসম্ভব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন রবিউল আলম চৌধুরি।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্তের বদল হল। তিনি বেলডাঙা থানায় যান। বেশ কিছু ক্ষণ তিনি ভিতরেই ছিলেন। তবে থানার আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার পরেই তাঁর সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। কী কথা হয়েছে তা রবিউল বলেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থানার আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রশ্নই নেই। তবে দলীয় কর্মীদের ওপর যাতে অত‍্যাচার না হয় তার জন্য প্রশাসনকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন রবিউল। তিনি যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন। প্রচারে নামবেন বলেও রবিউল জানিয়েছেন। দলীয় প্রতীক চেনানো নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল তার সমাধান করতে নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মমতার প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি।

রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশে এমনই নির্দেশ দিয়েছে। তার পরে শুক্রবার সকালেই দুই পক্ষই প্রতীক এবং নাম পাঠায়। তার মধ্যে একটি নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে— ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তাঁর প্রার্থী ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে— ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।’ তাঁদের প্রার্থী ‘খাম’ চিহ্নে লড়াই করবেন।

বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, “ওরা পাল্টিবাজের দল। রেজিনগরের মানুষ শিল্প চায়। শান্তিতে থাকতে চায়। রাজ‍্য সরকার যে উন্নয়ন করছে, তার সাথেই যেতে চায়। তাই মানুষ বিজেপিকেই চাইছে।”

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। তার আগেই নন্দীগ্রামের সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেফতার হন। পুরোনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে শনিবার হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মমতা কংগ্রেসকে নন্দীগ্রামে সমর্থন করায় বিজেপি বিরোধী তৃণমূলের ভোট কংগ্রেসের দিকে চলে যাবে। এর ফলে নন্দীগ্রামে যে প্রভাব পড়বে তা রেজিনগরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক ভাবে ময়দানে টিকে থাকতে মমতার সঙ্কটে পড়তে পারেন। বিরোধী সমীকরণে নন্দীগ্রামে যেটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা যাতে রেজিনগরের না হয়, সে কারণেই রবিউল আলমকে নির্বাচনে লড়াই করতে সাহস জোগান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


Share