Political Chaos

জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় হেনস্থার অভিযোগ! তৃণমূল পরিচালিত চাঁচল পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে থানায় পূর্ত দফতরের আধিকারিক

প্রসূনের অভিযোগ, এর আগেও তাঁর জমি ওই পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারী প্রসূন সিকদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁচল
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০

সরকারি আধিকারিক ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগে তৃণমূল পরিচালিত চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদহের চাঁচল এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। ঘটনাকে ইস্যু করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।

অভিযোগকারী প্রসূন সিকদার, যিনি পূর্ত দফতরে কর্মরত এবং চাঁচলের পাহাড়পুরের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, চাঁচলের পাঁচালি এলাকায় পুরনো জাতীয় সড়কের ধারে তাঁর আট কাঠা জমি রয়েছে। সেই জমির পাশেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা অমিতেশ পাণ্ডে ও তাঁর ভাই অভিষেক পাণ্ডের জমি। প্রসূনের অভিযোগ, এর আগেও তাঁর জমি ওই পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

প্রসূন সিকদারের অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি নিজের জমিতে পাঁচিল নির্মাণ শুরু করলে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে হাজির হতে বলা হয় এবং পাঁচিল নির্মাণের কারণ জানতে চাওয়া হয়। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত আইনে নির্দিষ্ট উচ্চতার পাঁচিল নির্মাণের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তাই এই নোটিশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতার প্রভাবেই পঞ্চায়েত এই পদক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনার জেরে তাঁর স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাও মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন।

অন্য দিকে, তৃণমূল নেতা অমিতেশ পাণ্ডের ভাই অভিষেক পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উভয় পক্ষেরই কিছু জমি ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রসূন সিকদার অজ্ঞাত কারণে সেই জমি ছাড়ছেন না। তাই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হোসেন জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রসূন সিকদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্য জড়িত নয় বলেও দাবি তাঁর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


Share