Humayun Kabir

অডিয়ো-বিতর্কে পুলিশি তলব, গ্রেফতারির আশঙ্কা হুমায়ুনের! থানায় ঢোকার আগে ক্ষোভ, ‘ইচ্ছে করলে আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করবেন বলে জানালেও, থানায় ঢোকার আগে হুমায়ুন একাধিক বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নওদা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৪৩

অডিয়ো-বিতর্ককে কেন্দ্র করে পুলিশি তলব। নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে বহরমপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি থানায় পৌঁছে যান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করবেন বলে জানালেও, থানায় ঢোকার আগে হুমায়ুন একাধিক বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

থানায় যাওয়ার আগে হুমায়ুন পুরনো একটি প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বেয়াইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন তিন পুলিশ আধিকারিক। সেই ঘটনায় আদালতে ওই আধিকারিকদের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। হুমায়ুনের কথায়, ‘‘আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল ওই অফিসারদের। এখন তাঁরাই আমাকে তলব করেছে।’’ ওই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাসকদলকে ‘তুষ্ট’ করে চলার অভিযোগও তোলেন নওদার বিধায়ক। পাশাপাশি তাঁর দলের একের পর এক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও তিন অভিযোগ করেন। হুমায়ুন বলেন, ‘‘প্রশাসন নির্বিচারে আমার লোকদের গ্রেফতার করছে। তারা ইচ্ছে করলে আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে।’’

সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে হুমায়ুন কবীরের কথোপকথনের একটি অডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিয়োর সত্যতা অবশ্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করেনি এখন কলকাতা ডট কম। অভিযোগ, কথোপকথনে হুমায়ুন উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে শনিবার বিকেলে বহরমপুর থানার পুলিশ হুমায়ুনের বাড়িতে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯, ১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

উপনির্বাচনের আগে দলের নেতা-কর্মীদের ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে’ পুলিশ গ্রেফতার করছে বলে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক দলীয় নেতাকে গ্রেফতার করে রাজনৈতিক ভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হন মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিম। শক্তিপুরের মিঞাগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় মহম্মদ নাসিম শেখকে। নাসিম হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বাকি ধৃতদের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঞ্জুর রহমানের স্ত্রী বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। হক মল্লিক আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ছ’টি অঞ্চলের দায়িত্বেও রয়েছেন। আব্দুল আলিম দাদপুর অঞ্চলের সভাপতি বলে দলীয় সূত্রে খবর। এর পর সোমবারও আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


Share