Arrest TMC Leader

পর্ণশ্রীতে গ্রেফতার কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাস, খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রাক্তন কাউন্সিলের বিরুদ্ধে

পুলিশের দাবি, অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়েছে।

পর্ণশ্রীতে গ্রেফতার কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পর্ণশ্রী
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩০

পর্ণশ্রী থেকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সংহিতা দাসের স্বামী। শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়েছে।

সংহিতা দাস কলকাতা পুরসভার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। তিনি পুরসভার ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ায় সেই পদ হারান তিনি। তাঁর স্বামী অঞ্জন দাসও এক সময় তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরেও তিনি কালীঘাট শিবিরের সঙ্গেই ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় অঞ্জন ছাড়াও অভিযুক্ত ছিলেন বিপ্লব ঘটক, ভোলা সরকার, সন্তু দাস, উৎপল দে, চিত্তরঞ্জন দাস এবং মৃত্যুঞ্জন দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে কাজে বাধা দেওয়া, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা, ভয় দেখানো এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২১ সালে এই মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট আলিপুর আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩১ মে অভিযোগকারীর স্ত্রী পর্ণশ্রী থানায় নতুন করে অভিযোগকারী দায়ের করেন। এরপর মামলাটি পুনরায় তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাব-ইন্সপেক্টর কুণাল বরাইককে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৮৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয় আদালতে। আদালতের অনুমতি মেলার পর ৮ জুলাই তাঁদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই পুরনো মামলায় শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করা হয়। এরপরই অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, অঞ্জন দাস ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তিনি পরিচিত। বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে যে পাঁচ বার নির্বাচনে লড়েছেন, প্রতিবারই তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেন অঞ্জন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কালীঘাট শিবিরের একাধিক নেতা-সমর্থক অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিলেও অঞ্জন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট থেকে হাজরা পর্যন্ত আয়োজিত মিছিলেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।


Share