Mamata Banerjee

কেউ চাকরিচ‍্যুত হবেন না, ভোটের বাইরের কাজ করবেন, চার সরকারি আধিকারিকের সাসপেন্ড নিয়ে পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন এবং কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘তুঘলকি’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তা রাজ্য সরকারকে জানিয়ে নিয়মমাফিক তদন্ত করা যেত। কিন্তু এখানে তদন্ত বা শোকজ ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫

রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন না, তবে নির্বাচনী কাজ থেকে তাঁদের সরিয়ে রাখা হবে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে থাকবে, প্রয়োজন হলে পদোন্নতিও দেওয়া হতে পারে।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন এবং কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘তুঘলকি’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তা রাজ্য সরকারকে জানিয়ে নিয়মমাফিক তদন্ত করা যেত। কিন্তু এখানে তদন্ত বা শোকজ ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, ‘‘ইআরও-দের সাসপেন্ড করার কারণ কী? যে ইআরও-দের সাসপেন্ড করলেন, তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছেন, আপনাদের অপরাধটা কী, দোষটা কী?’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, তা রাজ্যকে জানানো যেত। আমরা ভদ্রতা করে কমিশনের নির্দেশ মেনেছি। কিন্তু শাস্তি দেওয়ার আগে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কয়েক জন আধিকারিককে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন এবং তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করেছেন।

জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিকেরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এইআরও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অসদাচরণ, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে কমিশন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-কে চিঠি পাঠায়। পরে কমিশন নিজেই তাঁদের সাসপেন্ড করে এবং এইআরও দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকেরা হলেন সত্যজিৎ দাস, জয়দীপ কুন্ডু, ডালিয়া রায়চৌধুরী, শেফাউর রহমান, নীতীশ দাস, শেখ মুর্শিদ আলম এবং দেবাশিস বিশ্বাস। শুধু সাসপেন্ড নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে তাদের সোমবার সরাসরি কমিশনই সাসপেন্ড করে দেয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইআরও, ডিএম এবং পুলিশ প্রশাসনকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ভোট ঘোষণা হওয়ার পরই নির্বাচন বিধি কার্যকর হয়। তার আগে কেন এই পদক্ষেপ? জনগণের টাকা খরচ করে প্রচার করছেন, আবার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন এটা রাবণের সীতা হরণের মতো।’’  তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘু, তফসিলি ও গরিব মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নামে।

এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “২৪ বছর সময় ছিল। আগে থেকে শুরু করলেন না কেন? পুজো-বড়দিনের সময়ে এই সব করা হল কেন?” কমিশনকে ‘তুঘলকি’ মনোভাবের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন তিনি, “ভাবছেন চেয়ারটা স্থায়ী। ডোন্ট কেয়ার মনোভাব দেখাচ্ছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর দল সংবিধান মেনেই চলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। মমতার হুঁশিয়ারি, “কেউ যদি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আগেই শেষ করতে চায়, আমরা চুপ করে থাকব না। আমাকে আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘাত করব।’’


Share