Oath Ceremony

বিধানসভায় শপথ নিলেন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের দুই বিধায়ক, ২০৯-এ পৌঁছোল বিজেপির আসন সংখ্যা! চন্দ্রনাথ হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

দুই নতুন বিধায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের আগামী দিনের কাজের জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি। একইসঙ্গে বিধানসভার নতুন সদস্য হিসেবে হাসিরানি ও শাখারভকে স্বাগত জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের বিজেপি বিধায়কের শপথপাঠ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩৬

পুজো মিটতেই বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করলেন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই দুই বিধায়কের জয়কে কেন্দ্র করে বিধানসভায় বিজেপির মোট আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯-এ। বিশেষ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই নতুন বিধায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের আগামী দিনের কাজের জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি। একইসঙ্গে বিধানসভার নতুন সদস্য হিসেবে হাসিরানি ও শাখারভকে স্বাগত জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভায় দাঁড়িয়েই বিজেপিকে ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রচারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত ৭০ হাজার মহিলার মধ্যে ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। তাঁর কথায়, “আমরা হিন্দু, সনাতনী, কপালে টিকা ধারণ করি। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয় বিজেপি।” রেজিনগরের ৩০০টি বুথের মধ্যে ২০০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কেন্দ্রে ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয়কে রাজনৈতিক প্রচারের জবাব হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই সরকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে এগিয়ে চলেছে। আগামী দিনে উন্নয়নের আরও কাজ দেখা যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

নন্দীগ্রামের বিধায়ক হাসিরানি রথকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ওই আসন ছেড়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের আসন ছাড়ায় এলাকার অনেকেই তাঁর উপর অভিমান করেছিলেন। তবে ভবানীপুরে তাঁর হাতে দু’বার পরাজিত হওয়া প্রতিপক্ষ যাতে ফের নির্বাচনে লড়ার সুযোগ না পান, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল বলে দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “অনেক বয়েস হয়েছে, এই বয়েসে বিশ্রাম নেওয়ার কথা।” নন্দীগ্রামের মানুষ ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হাসিরানি রথকে জয়ী করেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজের প্রতিশ্রুতি নতুন বিধায়কের মাধ্যমে পূরণ করবেন।

এ দিনের বক্তব্যে নিজের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুটার ও সুপারি কিলার-সহ সাত জনকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কথিত দু’কোটি টাকার উৎস এখনও জানা বাকি বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সেই টাকা ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট না ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল, তা তদন্তে প্রকাশ্যে এলেই পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে বলে দাবি তাঁর।


Share