Special Intensive Revision

শীর্ষ আদালতের নির্দেশই সার, সময় পেরিয়ে গেলেও সঠিক তালিকা পৌঁছোয়নি কমিশনে, গ্রুপ-বি কর্মী নিয়ে বিভ্রান্তি অব্যাহত

মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে শুনানির জন্য ডাকা মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। শুনানির নোটিশ প্রস্তুত থাকলেও ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার জন ভোটারের বাড়িতে তা পৌঁছোয়নি। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি নথি যাচাই ও নিস্পতির কাজ শেষ হবে।

রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৫

সুপ্রিম কোর্টের বেধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের গ্রুপ-বি আধিকারিকের নির্দিষ্ট তালিকা পৌঁছোয়নি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

রাজ্য সরকারের ৮ হাজার ৫০৫ গ্রুপ-বি কর্মীদের মাইক্রো অবজার্ভারদের বিকল্প হিসেবে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সিইও দফতরের পক্ষ থেকে সোমবারই রাজ্য সরকারের কাছে  ৮ হাজার ৫০৫ গ্রুপ-বি কর্মীদের তালিকা তথ্য সমেত পাঠাতে বলা হয়। সিইও দফতর সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও রাজ্য তা পাঠায়নি। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ডেডলাইন (মঙ্গলবার বিকেল ৫ টা) পেরিয়ে গেলেও তা পাঠাতে পারেনি রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানা যে আদালত অবমননার সামিল কমিশনের পদস্থ আধিকারিকেরা সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন।

পাশাপাশি হোয়াটসঅ‍্যাপে নির্দিষ্ট আধিকারিকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেএকটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে, তা নিয়েও যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে। তালিকায় বহু পদাধিকারী রয়েছেন যাঁরা সরকারিভাবে গ্রুপ-বি পর্যায়ের কর্মী কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক, আমিন, ক্লার্ক কাম  টাইপিস্ট, আপার ডিভিশন ক্লার্কের একাংশ, অফিস অ্যাসিস্টেন্ট, সুপারভাইজার ছাড়াও বেশ কিছু পদাধিকারী গ্রুপ-বি বা গ্রেজেটেড অফিসার কি না তা নিয়ে কমিশনের পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যেই অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়াও, ৮ হাজার ৫০৫ কর্মীদের হোয়াটসঅ‍্যাপের তালিকায় এমন কর্মীদের নাম রয়েছে যাদের মধ্যে অনেকেই এইআরও-র দায়িত্ব পালন করছেন অথবা শুনানি নথি যাচাইয়ের কাজে ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছেন। যাঁদের চিহ্নিত করতে নির্দিষ্ট তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের এর কর্তার কথায়, পদমর্যাদার এই বিভ্রান্তি দূর করতেই কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা বায়োডেটা প্রয়োজন। তা অগেই চাওয়া হলেও নবান্ন তা-ও পাঠায়নি বলে অভিযোগ।

এর পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মীদের তথ্য যাচাই করে কাজে নিয়োগ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই ৮ হাজার ৫০৫ কর্মীদের দিয়ে যদি নথি যাচাইয়ের কাজ করাতে হয়, তাহলে সকলকে ‘লগইন আইডি’ দিতে হবে। তার আগে দু-তিন দিন অন্তত এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তার পরে নিয়োগপত্র দিতে হবে। লগইন আইডি তৈরি দিতে ন‍্যূনতম তিন দিন সময় লাগবে।

কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনস্থ সংস্থার কর্মচারীদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে যাতে তাঁদের নিজেদের জেলার পোস্টিং না হয়  অথবা ওই নির্দিষ্ট জেলায় তাঁর অফিস না থাকে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। নতুন ৮ হাজার ৮০৫ জনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বর্তাবে। সেজন্য সিইও দফতর যে তথ্য চেয়েছিল তা জরুরি বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।

এদিকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত  রাজ্যে শুনানির জন্য ডাকা মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। শুনানির নোটিশ প্রস্তুত থাকলেও ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার জন ভোটারের বাড়িতে তা পৌঁছোয়নি। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি নথি যাচাই ও নিস্পতির কাজ শেষ হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ৮ হাজার ৮০৫ গ্রুপ-বি কর্মীকে নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করতে গেলে যতটা সময় ব্যয় হবে ততদিনে শুনানির নথি যাচাইয়ের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরাই। সব মিলিয়ে এই ৮ হাজার ৫০৫ জন রাজ্য সরকারি কর্মীর এসআইআর-এর কাজে ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান কমিশনের পদাধিকারিরাই।


Share