Durga Puja

মুকুন্দপুরে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিজেপির গোষ্ঠীসংঘর্ষ, দু’পক্ষের হাতাহাতি জখম বেশ কয়েক জন, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জ

যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, "ভাসান নিয়ে কোনও বাদানুবাদ হয়েছে। তা থেকে মারপিট হয়েছে। আমি পুলিশকে নিরপেক্ষ ভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে বলেছি। যারা যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পুলিশ সেই কাজই করেছে।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৮

মুকুন্দপুরে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াল বিজেপির দুই গোষ্ঠী। পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। দু’পক্ষই একে অপরের সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতিতে জড়ায় বলে অভিযোগ। এমনকী, একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠির আঘাত করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি হাতে বাইরে চলে গেলে সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে।

পালাবদলের পরে মুকুন্দপুর সর্বজনীন কমিটির মাথায় বিজেপির একটা অংশ বসেছে। তাদের পাশেই এ বছর থেকে আরেকটি পুজো শুরু হয়েছে। তারা নাম দিয়েছে- ‘অভয়া দুর্গপুজো ২০২৬’। এখানেও বিজেপির অপর একটি গোষ্ঠী রয়েছে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিভাজন তৈরি হয়।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুকুন্দপুর বাজারের পাশে যে পুকুরঘাট রয়েছে সেখানে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য আসে দুই পক্ষ। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করে। পরবর্তী সময়ে বাদানুবাদ থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষ রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠি চালায় বলেও অভিযোগ উঠছে। দু’পক্ষই বিজেপির সঙ্গে জড়িত। একাংশের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে এলাকা দখল, তোলাবাজির মতো বিষয়।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। দুই তরফেই পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপির উভয়পক্ষই দলের উচ্চ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এর বিচার চাইছেন তারা।

একপক্ষের বক্তব্য, "মুকুন্দপুরে এই প্রথম বার দু’টো পুজো হচ্ছে। দু’টো পুজো হওয়ায় আমরা অভয়াকে নিয়ে করছি। যাকে নিয়ে সবাই এত আন্দোলন করেছিল রাজ‍্যজুড়ে, সেই অভয়া যাতে না হারিয়ে যায় তার জন্য আমরা অভয়াকে নিয়ে একটা পুজো করেছিলাম। সেই পুজোটা অঞ্চলে বিরাট সাড়া ফেলেছিল। যাদবপুরে অনেক সাড়া ফেলেছিল। আমরা ভাল ভাল অনুষ্ঠানও করেছিলাম পুজোকে সামনে রেখে। কিন্তু, আমাদের মুকুন্দপুরের যে আদি পুজো, সেই পুজোর কার্যকর্তারা এটা ভালভাবে নেননি। সেই নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত। একজন মানুষ পুরো অঞ্চলটাকে বিষিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, এরা তৃণমূলের ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তোলাবাজি, টাকা লুঠ করে এ ধরনের কারবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা কখনোই পছন্দ করছি না। এটা করতে দেবও না। কারণ, বিজেপি এই নোংরামোতে বিশ্বাস করে না। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সুন্দর ছিল।"

যদিও অপর গোষ্ঠীর তরফে বলা হয়েছে, "আমাদের ৭-৮ জন ঘটনায় জখম হয়েছেন। আমরা স্থানীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে জানিয়েছি। প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। আমরা এর বিচার চাই।"

যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, "ভাসান নিয়ে কোনও বাদানুবাদ হয়েছে। তা থেকে মারপিট হয়েছে।  আমি পুলিশকে নিরপেক্ষ ভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে বলেছি। যারা যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পুলিশ সেই কাজই করেছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় গোটা বিষয়টা আপাতত স্তিমিত।"


Share