TMC Political Crisis

‘অভিষেক বাঘের মতো লড়ছে,’ এতো অভিযোগ থাকার পরেও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘বিদ্রোহী’দের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অভিষেককে খারাপ বলাটা বাহানা হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে মমতার দাবি, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও “বাঘের মতো” লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩১

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের একাংশ বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে নানা অভিযোগ তুলছেন। তাঁদের দাবি, দলের বর্তমান অস্থিরতার নেপথ্যে অভিষেকই অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে অভিষেকের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বিদ্রোহী’দের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অভিষেককে খারাপ বলাটা বাহানা হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে মমতার দাবি, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও “বাঘের মতো” লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবারই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ দিনের সঙ্গী মদন মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত-তৃণমূলে যোগ দেন। শিবির বদলের পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দাবি করেন, তাঁর জন্যই অনেক নেতাকে জেলে যেতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন দলবদল করা অনুব্রত মণ্ডলও। এই আবহেই ফেসবুক লাইভে এসে অভিষেকের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি দলত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধেই তোপ দাগেন তিনি।

বর্ষীয়ান নেত্রী অভিযোগ করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মীকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, তাঁদের বলা হচ্ছে “হয় সেটিং কোম্পানিতে নাম লেখান, নয় তো জেলে যান।” পাশাপাশি, দলের নিচুতলার বহু কর্মী নিজেদের এলাকায় সভা বা বৈঠকও করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের জন্য তাঁর কালীঘাটের কার্যালয়ের দরজা সবসময় খোলা। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের প্রথম সারির একাধিক নেতা তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন। তবে এখনও যাঁরা তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁরাই তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি এবং ‘সোনার খনি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি যদি নিজে সেটিং করে নিতাম, তা হলে তো এই অত্যাচার সহ্য করতে হত না আমার দলের কর্মীদের।”

তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ নেতাই দলের বর্তমান অবস্থার জন্য অভিষেককেই দায়ী করেছেন। তবে বুধবারের ঘটনায় মমতা স্পষ্ট বার্তা দিলেন, তিনি এখনও অভিষেকের পাশেই রয়েছেন। দলত্যাগীদের বিঁধে বললেন, “অভিষেক অনেক খারাপ আপনাদের কাছে। ওটা বাহানা হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের বৌ যদি দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সিবিআই অফিসে যেতে পারে… একটু সেটিং করে নিলে সবচেয়ে রিলিফ হতে পারত। আপনারা বাহানা দেখিয়ে বলছেন, অভিষেক আপনাদের আয়না, তাই আপনারা চলে যাচ্ছেন। এটা আপনাদের বাহানা। যদি আপনাদের চোখে ও (অভিষেক) কোনও অন্যায় করে থাকে, অভিষেকের সব অন্যায় ক্ষমা হয়ে গিয়েছে। সে আজ লড়ে যাচ্ছে বাঘের মতো।”

নেত্রী আগেও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, দলে তিনি একটি প্রজন্ম নয়, তিনটি প্রজন্ম তৈরি করে রেখেছেন। বুধবার অভিষেকের প্রশংসা করার সময়ে ফের তা স্মরণ করিয়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, “এরাই লড়বে। কারণ, এরা আগামী ৫০ বছর রাজনীতি করবে।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি তিনটে জেনারেশন তৈরি করেছি। যে প্রজন্ম আমার সঙ্গে এখনও আছে, তারা আগামী দিনে (রাজনীতি) করবে। আমি তাদের মাথার উপর ছাতার মতো থাকব। যত ক্ষণ লড়াই শেষ না হচ্ছে, কেউ আমার কণ্ঠরোধ করতে চাইলে, চেষ্টা করে দেখুক।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভে আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র। লাইভে সরাসরি তাঁর নাম না করলেও কামারহাটির বিধায়ককে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আজও এক জন চলে গিয়েছে। আমার কোনও দুঃখ নেই। সে আমাকে কালই মেসেজ করে বলেছিল আমার পরিবারকে তলব করেছে ইডি। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম।” মমতার আরও দাবি, ওই বার্তা পাওয়ার পরই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে মদন মিত্রকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে মমতার দাবি, তিনি দলকে নতুন করে সাজিয়ে তুলবেন। তিনি বলেন, “আমি ২০০৪ সালে একা থেকে যদি নতুন করে শুরু করতে পারি, ২০২৬ সালেও নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা রাখি। এইটুকু জোর আমার আছে।” তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আসা খোঁচারও জবাব দেন মমতা। বলেন, “আমার বয়স নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে না। বয়স দেখিয়ে কাউকে অসম্মান করার চেষ্টা করবেন না। আজ যাঁরা বলছেন, তাঁদের লাইফের কোনও গ্যারান্টি আছে কি!”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ভোটের ফলপ্রকাশের দিন কালীঘাটে বিজেপির একটি মিছিল বের হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাক’ এমন স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মমতা পাল্টা জানান, “বিজেপি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আছি। মানুষের ভালবাসায় বাঁচব। আমার যা কর্মী আছে এনাফ। নতুন অনেকে জয়েন করছেন। পুরনোরা যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁরাও ফিরে আসুন।”


Share