Mamata Banerjee

১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! এসআইআর ঘিরে বিস্ফোরক সতর্কবার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সেখানেই এসআইআর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮০ লক্ষে পৌঁছতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সব মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত কতজন নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সেখানেই এসআইআর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮০ লক্ষে পৌঁছতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সব মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে।”

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদিও পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সুযোগ থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে না, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত স্থগিতই থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কার নাম বাদ যাচ্ছে - হিন্দু, মুসলিম, শিখ না জৈন, সেটা দেখি না। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও জানান, ২৮ তারিখ তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বলেন, ''আমি এখানে ন্যায়ের জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছি, যদি সফল হ‌ই তাহলে এখানে এসে আবার মাথা ঠেকাব।''

এদিকে হাতে সময় মাত্র কয়েক দিন। এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ খতিয়ে দেখা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ করাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেরও। কমিশন সূত্রের হিসেবে, যদি এক হাজারের বেশি বিচারিক আধিকারিক দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে দিনে গড়ে ২৫০টি করে আবেদন পরীক্ষা করেন, তা হলে প্রায় ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব।

তবে প্রাথমিক অনুমান বলছে, আগামী কয়েক দিনে কিছু লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হলেও ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘অচিহ্নিত’ নাম ঘিরে জট তৈরি হয়েছে। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চয়তায় মোড়া।


Share