TMC Political Crisis

দল থেকে মমতার ‘অপসারণ’! অভিষেককেও সাসপেন্ড, ঋতব্রতদের তৃণমূলে নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়

সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। তার পরেই ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতারা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, সেখানে ৬০ জন বিধায়ক ছিলেন।

নিউ টাউনের হোটেলে বিদ্রোহী তৃণমূলের বৈঠক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৭:১০

এ বার তৃণমূল থেকেই অপসারিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে তৃণমূলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সেই পদে আনা হল মধ‍্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাসপেন্ড’ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। তার পরেই ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতারা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, সেখানে ৬০ জন বিধায়ক ছিলেন। প্রায় ৭০ জন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। শুধু কলকাতা নয়, উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভা এবং বহরমপুর পুরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলরদেরও সেখানে দেখা গিয়েছে। যেখানে পুরবোর্ড এখনও রয়েছে, সেই সব পুরসভার কাউন্সিলরদেরও সেখানে দেখা গিয়েছে।

এই বৈঠকে ৩০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু গত ২০২২ সাল থেকে কোনও বৈঠক ডাকা হয়নি। তাই আইন মেনে এই কমিটি ভেঙে দিল ঋতব্রত ‘তৃণমূল’। সেই কর্মসমিতির বৈঠকে হাওড়া মধ‍্য বিধানসভায় বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, এই বৈঠক থেকে সহ-সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষকেও বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি, সহ-সভাপতি পদে কলকাতার প্রক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও রাখা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এই পদের জন্য সাবিনা ইয়াসমিন এবং সন্দীপন সাহা এবং জাভেদ খানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়। বিধানসভায় সই জালিয়াতি কান্ডকে সামনে রেখে কালীঘাটের মমতা-অভিষেকেপ বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। এর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন আরও চওড়া হয়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ‍্যসচেতক কে হবেন তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করার জন‍্য স্পিকারকে অনুরোধ জানান। ঋতব্রত-সন্দীপনদের অভিযোগ ছিল, তাঁরা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। সই জাল করে এই সিদ্ধান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন। এর পরে ৫৮ জনের বেশি বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হয়।

শুধু বিধায়ক নন, সংসদেও তৃণমূলের ভাঙন হয়েছে। এক দিকে ফিরহাদ হাকিমের মতো একদা ঘনিষ্ঠরা যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন তেমন ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই নামক একটি রাজনৈতিক দলের হাত ধরেছেন। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেবের মতো সাংসদেরা দল এবং রাজ‍্যসভার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নীচুতলাতেও ভাঙন হয়েছে। দল হেরে যাওয়ার পর থেকে রাজ‍্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল ছাড়ার হিরিক উঠে গিয়েছে। তাই আসন তৃণমূল কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? তা ঠিক করতেই এই বৈঠক হয়েছে। এ দিনের বৈঠকের পরে ঋতব্রতরাই আসল তৃণমূল, তা জানিয়ে দেওয়া হল। গঠন করে দেওয়া হল কমিটিও।

এই বিষয় নিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল সমার্থক। আমাদের দলের একটা কাঠামো রয়েছে। সেই অনুযায়ী, ওদের (বিদ্রোহী) এটা করার এক্তিয়ার নেই।”


Share