TMC Political Crisis

‘তৃণমূল পারিবারিক দল নয়,’ নির্বাচন কমিশনে এক ঘন্টার বেশি বৈঠকের পরে কালীঘাট গোষ্ঠীকে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের

শনিবার দুপুরে তৃণমূলের দুই শিবিরকেই নিয়েই বৈঠক ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের গোষ্ঠী প্রথমে বৈঠক করেন।

রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:১৩

তৃণমূলের প্রতীক কার দখলে যাবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষ। দফতর থেকে বেরিয়ে রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের কালীঘাট গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করে বলেন, দলটা কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এর পরে তৃণমূলের কালীঘাট গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন।

শনিবার দুপুরে তৃণমূলের দুই শিবিরকেই নিয়েই বৈঠক ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের গোষ্ঠী প্রথমে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, কার দখলে প্রতীক যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। ঋতব্রতের দাবি, সাগর থেকে পাহাড় পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁদের দখলেই রয়েছে।

সামনেই রাজ‍্যের দুই আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। তবে অনেকে মনে করেছিল ঋতব্রতেরা বিকল্প প্রতীকের দাবি কমিশনের কাছে জানাবেন। কিন্তু এক ঘন্টা ২০ মিনিট বৈঠকের শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা বিকল্প প্রতীকের বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে তিনি কমিশনকে এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছেন। 

তৃণমূল যে ‘পরিবারিক’ দল নয় তা নিয়ে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের কালীঘাটের গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ড. বন্দ্যোপাধ্যায়’ বলেও কটাক্ষ করে ঋতব্রতের বক্তব্য, একজনের কথায় দল চলতে পারে না। গণতন্ত্র কারও ইচ্ছায় চলতে পারে না।

ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়। নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত। কমিশনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কী কথা হয়েছে , বাইরে বিস্তারিত বলা যায় না। তবে এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছি— না খাতা, না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি— এ ভাবে আমরা চলি না।”

নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তৃণমূলের ঋতব্রত গোষ্ঠীর বিধায়ক আখরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, “আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গেই আছেন। জনপ্রতিনিধি, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত-সহ পুরসভা এবং জনপ্রতিনিধিদের ৮০ শতাংশই আমাদের সঙ্গে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সভাপতিরা আমাদের। তার মানে সমস্ত জেলার সভাপতি প্রায় ৯৯ শতাংশ আমাদের সঙ্গে আছেন। তাই আমরাই মূল তৃণমূল কংগ্রেস।”

অন্য দিকে, পাল্টা তৃণমূলের কালীঘাট গোষ্ঠীর বিধায়ক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, “নির্বাচন কমিশন তারাও তো বিজেপিরই শাখা সংগঠন। ফলে আমি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের পরই, কমিশনের দফতরে ঢোকেন তৃণমূলের কালীঘাট গোষ্ঠীর সদস্যরা। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক কার দখলে যাবে, কোন গোষ্ঠী দলীয় তহবিল নিয়ন্ত্রণ করার পাবে, শনিবারই তা নিয়ে কি কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসবে, সে দিকেই রাজনৈতিক মহল নজর রেখেছে।


Share    

TMC