Education Department

শিক্ষায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত, বদলাতে পারে পাঠ্যক্রম, বাদ যেতে পারে একাধিক অধ্যায়, বৈঠকের পর বিস্ফোরক বার্তা বিজেপি বিধায়কদের

পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম-শ্রী’ রাজ্যে কার্যকর করা, কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং স্কুল কমিটিগুলির পুনর্গঠন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের মুহুর্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৩:১৪

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল বর্তমান সরকার। সোমবার শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও স্বপন দাশগুপ্ত জানান, রাজ্যের বর্তমান শিক্ষাকাঠামো খতিয়ে দেখে আগামী দিনে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও পাঠ্যক্রমগত সংস্কারের পথে হাঁটার প্রস্তুতি চলছে।

বৈঠক শেষে শঙ্কর ঘোষ জানান, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই বিজেপির বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রয়োজনীয় মতামত ও সুপারিশ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘পাঠ্যক্রমে যা কিছু অযৌক্তিক এবং অন্ধকারের অধ্যায়, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।’ সম্প্রতি বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ স্কুলের সিলেবাস থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। সূত্রের খবর, এমন আরও কিছু বিষয় পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে মূলত বাংলার শিক্ষার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের বিষয়েই জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম-শ্রী’ রাজ্যে কার্যকর করা, কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং স্কুল কমিটিগুলির পুনর্গঠন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা নজরে এসেছে। আমরা সমস্ত বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করছি যাতে, বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।’

অন্যদিকে, শঙ্কর ঘোষ রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের বাংলায় দুর্নীতির কারণে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জেল খাটা বা অনুব্রত মণ্ডলের মতো ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে থাকা রাজ্যের শিক্ষার জন্য অসম্মানজনক।’ তাঁর দাবি, এই কলঙ্ক মুছে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সার্বিক সংস্কার আনা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


Share