Mamata Banerjee

'আমি পদত্যাগ করব না আমি হারিনি', পরাজয় মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না। তাঁর দাবি, তিনি পরাজিত হননি। বরং জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১০:৫২

সোমবার ছিল বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন। সেদিন দুপুরের মধ্যেই ফলাফল কী হতে পারে তা প্রায় পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে কখন ইস্তফা দেবেন? কারণ, পরাজয়ের পর এটাই দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। অতীতেও ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা সেই পথই অনুসরণ করেছেন। তাই সোমবার রাতে তিনি শেখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরোনোর পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেখান থেকে সরাসরি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। কিন্তু তাঁর কনভয় ঘুরে যায় কালীঘাটের বাড়ির দিকে।

পরের দিন, মঙ্গলবার বিকেলে নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটান মমতা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না। তাঁর দাবি, তিনি পরাজিত হননি। বরং জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। তাই তৃণমূল হেরে গিয়েছে। তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।

এমন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক অবস্থান কী? সংবিধানে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও উল্লেখ নেই। কারণ, ভোটে হেরে যাওয়ার পরও কোনও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেবেন না এমন পরিস্থিতি কল্পনা করা হয়নি। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে অতীতে কিছু কাছাকাছি পরিস্থিতি তৈরি হলেও, পরাজয়ের পর ইস্তফা না দেওয়ার নজির কার্যত নেই। ফলে মমতা যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ না করেন, তা হলে তা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। তবে মেয়াদ শেষ হলেই তাঁর পদও স্বয়ংক্রিয় ভাবে শেষ হবে, এবং তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। উল্লেখযোগ্য, ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক আইন নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক রীতি বা শিষ্টাচার।

এর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় ২০১১ সালের ঘটনা। সেবার ফলাফল স্পষ্ট হতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন। এমনকী, তিনি সরকারি গাড়ি ত্যাগ করে দলীয় গাড়িতে পার্টি অফিসে ফেরেন।

এদিকে, নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। তবে শপথগ্রহণের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। যদিও নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ৯ মে শপথ হতে পারে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারেন। তিনি বিজেপির পরিষদীয় দলের পর্যবেক্ষক।

যিনি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হবেন, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। শপথের তারিখ যদি ৮ মে হয়, তবে কোনও ফাঁক থাকবে না। কিন্তু যদি ৯ মে বা তার পরে হয়, তবে ওই মধ্যবর্তী সময় রাজ্যপাল প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান করবেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেবেন।

কিছু ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে দায়িত্বে থাকতে বলা হয়। অন্যথায়, স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যপাল নিজেই প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে। যদিও এত অল্প সময়ের জন্য তা সাধারণত প্রয়োগ করা হয় না।

সব মিলিয়ে, মমতা ইস্তফা না দিলেও কোনও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলেই তাঁর কার্যকালও শেষ হবে। তবে প্রচলিত রীতি ভাঙার কারণে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে কোনও প্রভাব পড়ে কি না, তা সময়ই বলবে।


Share