Abhishek Banarjee

অভিষেকের বাড়ির সামনে গার্ডরেলে ধাক্কা মেরে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন, পুলিশকর্মীকে দ্রুত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিল হাই কোর্টের

অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির দরজার সামনের গাড়িটির সরাতে গিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লেগে যায়। সেই কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন এক পুলিশকর্মীকে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৪

তৃণমূল জমানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি সরাতে গিয়ে ‘ভুল’ হয়ে গিয়েছিল পুলিশকর্মীর। অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির দরজার সামনের গাড়িটির সরাতে গিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লেগে যায়। সেই কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন এক পুলিশকর্মীকে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। হাই কোর্টের নির্দেশ, তাঁকে পুনরায় চাকরি ফেরানো নিয়ে পুলিশকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এটা ঠিক যে ওই পুলিশকর্মী ভুল করেছেন। তাঁর ভুলের জন্য কেউ আঘাত পেয়েছেন, এমনটা নয়। এই ভুলের ওই পুলিশকর্মীকে লঘু শাস্তি দেওয়াই যেত। বিচারপতি মনে করেন, এই ভুল এটা চাকরি যাওয়ার মতো নয়। সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য উপযুক্ত কারণ থাকা দরকার। যা কলকাতা পুলিশ দেখাতে পারেনি। আদালত জানায়, অবিলম্বে ওই পুলিশকর্মীকে চাকরি ফেরাতে হবে। কলকাতা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে চাকরিতে ফিরিয়ে নিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জানা গিয়েছে, গত ২০০০ সালে ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতো নামে এক ব্যক্তি কলকাতা পুলিশে গাড়িচালকের চাকরি পান। তিনি ২০০৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ২০২৩ সালে ৪ ডিসেম্বর ওই পুলিশকর্মীকে অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে একটি মোবাইল টয়লেট ভ্যান সংক্রান্ত ডিউটিতে রাখা হয়।

তৃণমূল জমানায় অভিষেকের বাড়ি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল। পুলিশের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এলাকার বাসিন্দারাই। ভুক্তভোগী পুলিশকর্মীর দাবি, এক দিন সেখানে রাখা মোবাইল টয়লেট ভ্যান থেকে দুর্গন্ধ বার হচ্ছিল। তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গাড়িটি সেখান থেকে সরানোর দাবিতে লোক জড়ো হয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিষেকের বাড়ির সামনে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে যান ধীরেন্দ্রনাথ।

সেই সময় ওই মোবাইল টয়লেট ভ‍্যানের চালক অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে গাড়িটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্য, গাড়িটি সরানোর সময় তিনি ভুল করে রিভার্স গিয়ার ব্যবহার করেন। তার ফলে গাড়িটি গার্ডরেলে ধাক্কা মারে। তার সঙ্গে জুড়ে থাকা বাড়ির প্রবেশ ফটকের সঙ্গেও ধাক্কা লাগে।

ওই ঘটনার পরেই লালবাজার ধীরেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করে। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। পরে সাসপেনশন প্রত্যাহার হলে তিনি আবার কাজে যোগ দেন। এরই মাঝে আচমকাই ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ধীরেন্দ্রনাথকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়। কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না বলে জানতে চায় লালবাজার। তার ১৫ দিনের মাথায়, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই পুলিশকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়।

লালবাজারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধীরেন্দ্রনাথ কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতেই কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর চাকরি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশে চাকরি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁর।


Share