Special Intensive Revision

এসআইআর নথি নিস্পতির জন‍্য বিচারকের তালিকা তৈরি, আপাতত ২৫০ জনের নাম রাজ‍্যকে পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শনিবার দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বৈঠক ডাকেন। এ দিন দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজ‍্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, রাজ‍্যের অ‍্যাডভোকেট এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৭

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে নথির নিস্পতি করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপরে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তার পরে সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিচারকদের নাম জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। নামের তালিকা রাজ‍্য সরকারকে পাঠিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শনিবার দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বৈঠক ডাকেন। এ দিন দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মনোজকুমার আগরওয়াল। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ‍্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকার, রাজ‍্যের অ‍্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শনিবার দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বৈঠক ডাকেন। এ দিন দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মনোজকুমার আগরওয়াল। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ‍্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকার, রাজ‍্যের অ‍্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।

এ দিন সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। মোট ২৫০ জনের তালিকা তৈরি করে রাজ‍্যের বিচার বিভাগে প্রিন্সিপাল সচিবকে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে পকসো, মহিলা এবং এনডিপিএস আদালতের বিচারক। তাঁদের তালিকা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, এই সমস্ত বিচারকেরা এসআইআরের কাজে যাবেন। তাই সরকারি ভাবে যে সমস্ত প্রক্রিয়া রয়েছে তা সম্পূর্ণ করতে হবে। এই কাজ অতি দ্রুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার।

শুক্রবার এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে এসআইআরের কাজে রাজ্যের ভূমিকাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাদের কথায়, ‘’রাজ্যে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি রাজ্য সরকার তৈরি করেছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’’ আর সেই পরিস্থিতিতেই বেনজির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাদের সিদ্ধান্ত, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কর্মরত জেলা বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, তাঁদের প্রত্যেক জেলায় নিয়োগ করে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতি এবং আনম্যাপড ক্যাটেগরি সংক্রান্ত সব দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভার এবং রাজ্যের নিযুক্ত অফিসারেরা এই বিচারকদের সাহায্য করবেন। বিচারকদের যে কোনও নির্দেশ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনকে তা অবিলম্বে মানতে হবে। এই নির্দেশগুলি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২-এর ক্ষমতা ব্যবহার করে দেওয়া হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে আপাতত ২৫০ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আরও ৪৪টি কেন্দ্রে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করার তালিকা পরে পাঠানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। প্রতিটি বিধানসভা পিছু একজন করে বিচারক থাকবেন। সোমবার থেকেই এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা কাজে যোগ দেবেন। তাঁর জন‍্য পৃথক ভাবে কমিশনের ওয়েবসাইটে লগইন করা ব‍্যবস্থা প্রস্তুত করা হবে জানা গিয়েছে। কোন বিধানসভায় কত সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই এবং নিস্পতি বাকি রয়েছে তা আগামীকাল রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।


Share