Arrest TMC Leader

তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ! দত্তপুকুর থেকে গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে

তাঁর নির্দেশেই এলাকায় তোলাবাজি চলত বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, নৈহাটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দত্তপুকুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:২১

গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগে তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে সেই সময় সনৎকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। অবশেষে শনিবার সকালে তদন্তকারীরা দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন। এ দিনই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর হিংসা এবং মারধরের একাধিক ঘটনায় সনৎ দে-র নাম জড়িয়েছে। তাঁর নির্দেশেই এলাকায় তোলাবাজি চলত বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, নৈহাটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দত্তপুকুরে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই সনৎকে গ্রেফতার করে নৈহাটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। প্রাক্তন বিধায়কের কঠোর শাস্তির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

নৈহাটি থানার সামনে দাঁড়িয়ে শনিবার সকালে বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার কিসান মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবার্ক ঘোষ বলেন, ‘‘নৈহাটির বাসিন্দা হিসাবে আমাদের দাবি একটাই, ওঁর কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি হোক। নৈহাটি বিধানসভা এলাকায় ওঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে যেন ঘোরানো হয়, ওসি-র কাছে আমরা সেই আবেদন জানিয়েছি। তা হলেই শান্তি পাব। অনেক অত্যাচার করেছেন। প্রত্যেক ভোট-পরবর্তী হিংসায় উনি যুক্ত ছিলেন। আমাদের সকলকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। নিজেদের বাড়িতেই থাকতে পারতাম না। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতেন। আমাদের জেলও খাটতে হয়েছে। সেই কর্মফল এখন ভুগতে হচ্ছে ওঁকে, সেই নৈহাটি থানাতেই ওঁকে নিয়ে আসা হয়েছে, দেখে ভাল লাগছে।’’

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এত দিন প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে যাঁরা ভয় পেতেন, পরিস্থিতির বদলের পর তাঁরাও অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী একাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তোলাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েক জন কাউন্সিলরও জেলে রয়েছেন। সেই তালিকাতেই এ বার সনতের নাম জুড়ল।

সনতের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ বলেন, ‘‘তৃণমূল বিধায়কের চেয়ে তোলাবাজ, গুন্ডা হিসাবে মানুষ ওঁকে বেশি চেনে। সনৎ দে আদ্যোপান্ত অপরাধী। উনি যে দিন উপনির্বাচনে জিতেছিলেন, সে দিনই এক বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। আমাদের কর্মীদের বাড়িতে লুটপাট করিয়েছিলেন, বোম মারিয়েছিলেন। একটা অ্যাম্বুল্যান্সের খালাসি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তিনিও বিনিয়োগ ছাড়াই ব্যবসা করতেন। ওঁকে শুধু কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালেই হবে না, আরও বেশি শাস্তি দিতে হবে। যা অত্যাচার করেছেন, নৈহাটির মানুষ ওঁকে ক্ষমা করবেন না।’’


Share