TMC Leader Arrest

জমি বিক্রিতে ‘কাটমানি’র অভিযোগ! সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল সরকার

অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ, জমি বিক্রির খবর পেয়ে তৎকালীন পুর প্রশাসক কমল সরকার জমি মাফিয়াদের সহযোগিতায় তাঁর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা কাটমানি দাবি করেন।

গ্রেফতার কমল সরকার
নিজস্ব সংবাদদাতা, বুনিয়াদপুর
  • শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১১:৩৪

জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায় সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল সরকারকে। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য। বুধবার বংশীহারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বুনিয়াদপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উপেন্দ্রনাথ সরকার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ কমল সরকারকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার তাঁকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

অভিযোগকারী উপেন্দ্রনাথ সরকারের দাবি, ২০২৩ সালে সরাইঘাট এফসিআই গুদামের কাছে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ৫৯ শতক জমি কেনেন তিনি। এক বছর পর সেই জমি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ, জমি বিক্রির খবর পেয়ে তৎকালীন পুর প্রশাসক কমল সরকার জমি মাফিয়াদের সহযোগিতায় তাঁর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা কাটমানি দাবি করেন। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে আরও এক লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উপেন্দ্রনাথ সরকারের অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবের কারণে ওই সময় থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর কথায়, "সরাইঘাট এফসিআই গোডাউনের সামনে একটি জমি ছিল। সেই জমিটা আমি বিক্রি করি। পুর প্রশাসক থাকাকালীন কমল সরকার বেশ কিছু গুন্ডাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কে কোথায় জায়গা বিক্রি করছে, সেই বিষয়ে নজর রাখত এবং সমস্ত জায়গা থেকে এরা টাকা আদায় করত। নিয়াতপুর পুরসভার সমস্ত জায়গাতেই এরা জোরপূর্বক টাকা আদায় করত। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন কেউ এদের নামে অভিযোগ করার সাহসটুকু পেত না।"

তিনি আরও দাবি করেন, বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকায় জমি কেনাবেচা হলেই একদল দুষ্কৃতী জোর করে টাকা আদায় করত। সেই টাকার ভাগ কমলের কাছেও যেত। তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে কমল সরকারের যোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী অভিযোগ করেন, "দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা টাকা পয়সা তুলেছে। বুনিয়াদপুর পুরসভা মূলত চোরদের আখড়া বলে পরিচিত। চাকরি দেওয়ার নাম করে এরা প্রচুর কাটমানি তুলেছে। বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন-সহ হিলি এলাকার আরও এক নেতা চাকরির দেওয়ার নামে এবং বিভিন্ন কাজের জন্য প্রচুর টাকা পয়সা নিয়েছে৷ ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের কোনও চোর গুন্ডা আর কাটমানি খেতে পারবে না এবং পুলিশ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।"

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানান, "বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন কমল সরকারের বিরুদ্ধে এক বাসিন্দা সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। বংশীহারী থানার পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের জন্য বৃহস্পতিবার কমল সরকারকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়৷ মহকুমা আদালত তিনদিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে।"


Share