Special Intensive Revision

‘ফর্ম-৭’-এর নিস্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন, সমস্ত ফর্ম অবিলম্বে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে পাঠানোর নির্দেশ নির্বাচন সদনের

শীর্ষ আদালতকে কমিশনক জানায়, সন্দেহভাজন ব‍্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করবে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রতিটি জেলা পুলিশের সুপার এবং মহকুমাশাসক।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানি শেষ হয়েছে। কিন্তু শুনানিপর্ব চলাকালীন রাজ‍্যের একাধিক জায়গায় ফর্ম-৭ জমা করা নিয়ে অশান্তি হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনের ফর্ম। কমিশনের নির্দেশ, ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন সদন।

ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করা বা মৃত বা স্থানান্তর হওয়া ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্ম-৭’। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ফর্ম-৭ জমা দিতে গেলে ইআরও-রা তা জমা নিচ্ছেন না। এমনকী, সরকারি ফর্ম-৭ পুড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে রবিবার নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এর আগে যত জায়গায় ফর্ম-৭ জমা দেওয়া নিয়ে ঘটনা ঘটেছে বা সরকারি রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, তা কঠোর ভাবে নিতে হবে। তার জন্য শীর্ষ আদালতের এই সংক্রান্ত নির্দেশও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

এর পরেই নির্বাচন কমিশন বলেছে, রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে যত ফর্ম-৭ আছে তা অবিলম্বে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠিয়ে দিতে হবে। শুধু পাঠিয়ে দিলে চলবে না, ফর্ম-৭-এ যত আপত্তি রয়েছে, তার দ্রুত নিষ্পত্তি সেরে ফেলতে হবে। সেই আপত্তি সংক্রান্ত ফর্ম-৭-এর নিস্পত্তি ঠিকঠাক হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

উল্লেখ্য, ফর্ম-৭ জমা দেওয়া নিয়ে রাজ‍্যের একাধিক জায়গায় বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে ধুন্ধুমার বাধে। বাঁকুড়ার তালড‍্যাংরায় ফর্ম-৭ নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক জন বিজেপি নেতা-কর্মীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যদিও আদালতে পুলিশের যুক্তি ধোপে টেকেনি। তাঁরা জামিন পান পরের দিনই। সেই সময় কমিশন জানায়, ফর্ম-৭ যে কেউ জমা দিতেই পারে। সেটা কোনও অপরাধ নয়। তা খতিয়ে দেখার কাজ ইআরও এবং এইআরও-দের।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও। শীর্ষ আদালতকে কমিশনক জানায়, সন্দেহভাজন ব‍্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করবে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রতিটি জেলা পুলিশের সুপার এবং মহকুমাশাসক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত যে তাঁদেরকেই করতে হবে তা নিয়েও নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে ব‍্যক্তিগত ভাবে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট গত ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশিকায় বলেছিল, ইআরও-রা নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে ‘ফর্ম-৭’-এর আপত্তি বিবেচনা করতে বাধ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত ভাবে  শুনানির জন্য উপস্থিত হন বা না হন, তাঁরা নির্বিশেষে এই কাজ করবেন। ‘ফর্ম-৭’ সংক্রান্ত আপত্তি ইআরও-রা যাচাই করবেন। রবিবার সেই নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন।


Share