Maa Canteen

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বার্তা বিজেপির, ‘মা ক্যান্টিন’-এর মেনুতে আসতে পারে মাছ, নাম বদলেরও জোর জল্পনা

সূত্রের খবর, নতুন সরকার ‘মা ক্যান্টিন’-এর মেনুতে ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০১:১৮

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির উপর আঘাত নামবে। সেই ইস্যুকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণও শানানো হয়েছিল জোরদার ভাবে। এমনকি ভোটপ্রচারে হাতে আস্ত মাছ নিয়েও বহু তৃণমূল প্রার্থীকে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। তবে নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, এই প্রচার সাধারণ মানুষের উপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় ‘মা ক্যান্টিন’ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও নতুন বিজেপি সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছে, আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না। বরং সেই আবহেই ‘মা ক্যান্টিন’-এর কিছু পরিবর্তনের ভাবনা সামনে আসছে।

সূত্রের খবর, নতুন সরকার ‘মা ক্যান্টিন’-এর মেনুতে ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এক প্রবীণ বিজেপি বিধায়কের কথায়, “আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। তাই ডিমের বদলে মাছ রাখার চিন্তাভাবনা হচ্ছে।” তবে ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও খাবারের দাম আপাতত ৫ টাকাই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই কৃষি বিপণন দপ্তরকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে অধিকাংশ ‘মা ক্যান্টিন’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেখানে ‘সুফল বাংলা’ থেকে কম দামে সবজি সরবরাহ করা হয় এবং রাজ্য সরকারের তরফে বিনামূল্যে চাল দেওয়া হয়। ভোটের ফল ঘোষণার পরে কয়েকটি জায়গায় ক্যান্টিন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত সেগুলি ফের চালু করা হবে। সূত্রের দাবি, সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প। প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের জন্য ৫ টাকায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সেই প্রকল্প ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় ২৪৯টি ক্যান্টিনে পাঁচ টাকায় ভাত, ডাল ও ডিমের তরকারি বা ডিমসেদ্ধ দেওয়া হয়। মূলত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।


Share