Assembly Election 2026

এক বা দু’দফায় নির্বাচন চায় সব বিরোধীরা, এসআইআর নিয়ে সরব তৃণমূল, ‘কাটা আঙুল’ প্রসঙ্গ তুলল বিজেপি

বৈঠকে সমস্ত বিরোধী দলই রাজ্যে এক বা সর্বোচ্চ দু’দফায় নির্বাচন করানোর আর্জি জানিয়েছে। সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে তাঁরা। তবে কমিশনের বৈঠকে এসআইআর নিয়ে সরব হয় তৃণমূল এবং সিপিএম।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করল নির্বাচন কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৫:৩২

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আটটি অনুমোদিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে সমস্ত বিরোধী দলই রাজ্যে এক বা সর্বোচ্চ দু’দফায় নির্বাচন করানোর আর্জি জানিয়েছে। সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে তাঁরা। তবে কমিশনের বৈঠকে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সরব হয় তৃণমূল এবং সিপিএম। তৃণমূলের দাবি, তাঁরা ভোট দফা নিয়ে কিছু জানায়নি। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কাটা আঙুল’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গে পদক্ষেপ করতে বিজেপি ফুল বেঞ্চের কাছে দাবি জানিয়েছে।

কমিশনের বৈঠকে এসআইআর নিয়ে কোনও কথাই বলেনি বলে দাবি করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ই চূড়ান্ত হবে। তাই কমিশনের বৈঠকে সে বিষয়ে প্রসঙ্গ তোলা হয়নি। আলোচনা হয়েছে কেবল ভোট নিয়েই। অন্য দিকে, তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে এসআইআর-এর কথাই বার বার বলেছেন। তৃণমূলের তরফে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট। জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সঙ্গে যথাযথ ভাবে কথা বলেননি বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ‍্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের তরফে কমিশনের বৈঠকে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ফিরহাদ হাকিম, রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে রাজারহাটের পাঁচতারা হোটেল থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘এসআইআর নিয়ে যা-ই বলি, ওঁরা বলছেন, মামলা সুপ্রিম কোর্টে আছে। তাহলে আর আমাদের ডাকলেন কেন? ডেকেছেন যখন, আমাদের কথা তো শুনতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াটা কি আমাদের অন্যায় হয়েছে? বেশ করেছি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। যাব না কেন? মানুষকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’’ এর পরেই জ্ঞানেশের আচরণে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, ‘‘আমি মহিলা আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট! মহিলাদের প্রতি আসলে ওঁদের শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছে। আমার নাম না থাকলে সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো আপনার! কেন আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে? মহিলাদের ওপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়।’’ এসআইআর-এর কারণে রাজ্যে কয়েক’শো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করে দিয়েছে যে, এটা রোহিঙ্গা আর অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা। দু’মাসের এসআইআর প্রক্রিয়ায় তো তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া গেল না। এই মৃত্যুর দায় কার? শুধু নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এত মানুষকে কাজকর্ম ফেলে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের একটাই আবেদন, দেখবেন যেন কোনও ভারতীয় নাগরিক বঞ্চিত না হন।’’

এসআইআর-এ সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে কমিশনের বৈঠকে সরব হয়েছে সিপিএমও। তাদের তরফে বৈঠকে ছিলেন মহম্মদ সেলিম, আফ্রিন বেগম এবং শমীক লাহিড়ী। বেরিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘আমরা জানতে চেয়েছি কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন? ভোটের আগে তো তাদের নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে হবে।’’ সিপিএম নেতা আরও জানান, “যে সরকারি আধিকারিকদের অপদার্থতার জন্য ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি) ধরা পড়েছে, তাঁদেরকে দিয়েই ভোট করানো হবে। আগের বারও একটি উপ-নির্বাচনের তামান্না খুন হয়ে গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন বা কেউ একটি এফআইআর পর্যন্তও করেননি।”

কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রবীণ নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়েরা। তাঁরা জানান, এক দফায় ভোট হলেই ভাল হয়। তবে দফা তাঁদের অগ্রাধিকার নয়। নিরপেক্ষ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট তাঁরা চাইছেন। তার জন্য যত দফা প্রয়োজন, কমিশন তা আয়োজন করতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ছাড়াও ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টি বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। প্রতিটি দল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সে বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্তও করেছেন।

রাজ্যে দু’দিনের সফরে এসেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রশাসনের সঙ্গেও তাদের আলোচনায় বসার কথা। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কমিশনের বৈঠকে থাকবেন। সোমবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। শহরে আসার পর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউ টাউনের হোটেলে যাওয়ার পথেও জ্ঞানেশ বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে শনিবারই রাজ্যে এসেছেন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। গত দুই মাস যাবত রাজ্য যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে যাচ্ছিল তা খতিয়ে দেখবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। সেই বৈঠকে সিপিএমের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম। সূত্রের খবর, তিনি সেই বৈঠকে এক দফা নইলে খুব অসুবিধা হলে দুই দফা ভোটের দাবি জানিয়েছেন।


Share