Communism, CJP & Bangladesh

বাংলাদেশের ‘হিন্দু ও ভারত বিরোধী গেরিলা’ আন্দোলন ককরোচদের ‘অনুপ্রেরণা’ বলে দাবি কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরার! গভীর ষড়যন্ত্র?

নেহা বোরা বলেন, “এ দেশেও যাঁরা এই আন্দোলন করছে তাঁরাও ভোটাধিকার অর্জনের জন‍্য লড়াই করছে। আপনারা যে আন্দোলন করেছেন, সেই আন্দোলন আমরাও করছি।”

কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৬

হিন্দু ও ভারত বিরোধী বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরা। সংবাদমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘এখন কলকাতা’ ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি। এর আগে বাংলাদেশের ভারত বিরোধী ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম ককরোচদের জ্ঞানেশ-বিক্ষোভকে সমর্থন করেছিল। তার পরেই এই ভিডিয়ো নেহা করেছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে এমন বিক্ষোভের মুখে কমিউনিস্টদের সঙ্গে বিদেশি যোগের প্রশ্ন আরও জোরালো হল। নেহা বোরা কমিউনিস্টদের একটি ছাত্র সংগঠনের সভাপতি।

ককরোচদের আন্দোলনের প্রতি বাংলাদেশের ভারত বিরোধী নেতা নাহিদ ইসলামের সমর্থন জানানোর পরেই বোরা তাঁর ‘বিপজ্জনক আকাঙ্ক্ষার’ কথা প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম একজন কট্টর হিন্দুবিদ্বেষী ও ভারতবিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। নাহিদ শাহিনবাগের বিক্ষোভেরও প্রশংসা করেছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সামনে রেখে কার্যত তান্ডব চলেছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। খুন হতে হয়েছিল এক আইবি-র আধিকারিককেও। ওই বিক্ষোভের জেরে রাজধানী ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যাঁদের নাম জড়িয়েছিল, নাহিদ ইসলাম তাঁদের অন্যতম। সেই অস্থিরতার ফলে বাংলাদেশে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের, বিশেষত হিন্দুদের, ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তবে কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরার মনে করেন, ওই রক্তপাত একটি ‘বিপ্লব’ ছিল। এমন একটি আন্দোলনকে সমর্থন করার পরে কমিউনিস্ট নেহা কি ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ধরনের অস্থিরতার প্রতি যে নেহার আকর্ষণ রয়েছে তা বোঝা যায় তাঁর পরনের একটি টি-শার্ট থেকে। সেখানে ‘ওয়ান পিস’ নামের ‘মাঙ্গা’ থেকে ‘স্ট্র হ্যাট পাইরেটসের জলি রজার’-এর প্রতীক ছিল। এই প্রতীকটি এশিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সের মতো দেশে ‘প্রাণঘাতী অভ্যুত্থান’ ও বিদ্রোহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে যুক্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সেদিনই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় ৫৪টি ঘটনার উল্লেখ ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সংখ্যাটি বেড়ে ২০০-রও বেশি হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে হিংসার মাত্রা প্রকাশিত ঘটনার সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই বেড়ে যায় যে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের অনিশ্চিত ও বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ভিডিয়ো বার্তায় নেহা বোরার বক্তব্য, ভারতের ‘জেন-জি’-রা আন্দোলন শুরু করেছে। এই আন্দোলন ভোটাধিকার অর্জনের লড়াই। কমিউনিস্ট নেত্রী মনে করেন, ভারতে নাকি ভোটাধিকার নেই। বাংলাদেশ থেকেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলন থেকে তাঁরা ‘অনুপ্রাণিত’ হয়ে এখানে আন্দোলন করছেন। নেহা বলেন, “আপনারাই পথ দেখিয়েছেন। আমাদের দেশের মানুষ যারা জ্ঞানেশ-বিক্ষোভ করছে তাদের ধন‍্যবাদ জানানোর জন‍্য আমারা কৃতজ্ঞ।”

‘অলীক কল্পনার জগতে’ থাকা কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরার দাবি, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে হয়েছিল। হাসিনা জমানায় বাংলাদেশে ভোটাধিকার ছিল না বলে মনে করেন নেহা। তিনি বলেন, “এ দেশেও যাঁরা এই আন্দোলন করছে তাঁরাও ভোটাধিকার অর্জনের জন‍্য লড়াই করছে। আপনারা যে আন্দোলন করেছেন, সেই আন্দোলন আমরাও করছি।”

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে কমিউনিস্টরা মুখ থুবরে পড়েছে। কেরলও হাত থেকে গিয়েছে। আর কোনও রাজ‍্যেই তাঁরা ক্ষমতায় নেই। ‘বস্তাপচা’ আদর্শবাদের প্রতি কেউ আর সমর্থন জানাচ্ছেন না বলেই রাজনৈতিক মহল দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, মানুষ বাজার উন্মুক্ত করার পক্ষে। পুঁজির বিকাশ চাইছে। সব ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি চাইছে বলেও দাবি করেছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক মহল আরও মনে করছে, কমিউনিস্ট নেত্রী নেহা বোরার নিজেদের রাজনৈতিক লাভের জন্য বাংলাদেশের ধ্বংসলীলাকে ‘বিপ্লব’ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই ধরনের ভাঙনের সামান্য অংশও দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তির জন্ম দিতে পারে। যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এর প্রভাব দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সংবিধানের অর্থ ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যালট বাক্সের পরিবর্তে জনতার হিংসা রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্ধারণের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করায় কেন এই কমিউনিস্ট নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ করবে না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


Share