Murder

নতুন জেলা সভাপতির নাম ঘোষণার পরই উত্তপ্ত মেদিনীপুর! হাতিহল্কায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, টাঙ্গির কোপে প্রাণ গেল সামশেরের

দলের নতুন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারিও জানিয়েছেন, সামশের বিজেপির কর্মী নন। সংঘর্ষে আরও এক জন আহত হয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০০

মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহল্কা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। সেই সংঘর্ষে খুন হয়েছে এক ব্যক্তি। মৃতের নাম সামশের খান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সামশের বিজেপি কর্মী ছিলেন। যদিও সেই দাবি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের নতুন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারিও জানিয়েছেন, সামশের বিজেপির কর্মী নন। সংঘর্ষে আরও এক জন আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

শুক্রবার বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি হিসাবে সৌমেন তিওয়ারির নাম ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁর নাম ঘোষণার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এর জেরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ। এক পক্ষের উপর ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে অন্য পক্ষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই সময় টাঙ্গির কোপে সামশেরের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বিজেপি জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারি বলেন, ‘‘একটা ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমার কাছে যেটুকু খবর রয়েছে, মৃত বিজেপি কর্মী নন।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘৪ মের পরে কিছু কার্যকর্তা ভেবেছিলেন তিলক কেটে হাতে গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে বিজেপি হয়ে যাবেন। সেটা হয়নি। একটি রাজনৈতিক দল যারা অন্যায় অত্যাচার করে পশ্চিমবঙ্গকে শেষ করেছে, তাদের পরিকল্পনা, তাদের কিছু কার্যকর্তা এলাকা দখলে নেমেছে। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই।’’

অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব বিজেপির একাংশ। তাঁদের দাবি, দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মৃতের দেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে না। পরিস্থিতি ঘিরে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজির হন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অজয় জানা বলেন, ‘‘কারা কী ভাবে উস্কানি দিয়ে করেছে, তা তদন্তে উঠে আসবে। দোষীদের শাস্তির জন্য পুলিশকে বলেছি। জেলা সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা হাতিহল্কা থেকে মেদিনীপুর জেলা অফিসে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। সেখানে একটা গন্ডগোল হয়েছিল। শনিবার সকালে শুনলাম, এক জনকে টাঙ্গি দিয়ে মেরেছে।’’

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আবু বক্কর বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিজেপি পার্টিকে কলঙ্কিত করার জন্য তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে। যাঁরা মেরেছে তাঁরা কেউ বিজেপির নন।’’


Share