Suvendu Adhikari

কেন্দ্রের চিঠির জবাবও দেয়নি পূর্বতন সরকার! জনগণনা নিয়ে তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর, সীমান্ত অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা শুরুর বিষয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠালেও তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১২:৩৪

শুক্রবার নবান্নে জনগণনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা শুরুর বিষয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠালেও তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি, কেন্দ্রের চিঠির জবাবও দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।

পূর্বতন সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, রাজনৈতিক কারণেই জনগণনার কাজ শুরু করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ের মুখ্যসচিবও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে দেশের অন্যান্য রাজ্য যেখানে জনগণনার প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই জনগণনার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হবে, যা চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন সেন্সাস ডিরেক্টর রশ্মি কোমল।

শুভেন্দু আরও জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। জনগণনা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য দু’টি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। এ বার প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হবে। সরকারি কর্মীরা নিজেদের মোবাইল ফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং তা সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করবেন। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, ওই অ্যাপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই; এটি একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি জনগণনার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের সহযোগিতাও কামনা করেন।

এ প্রসঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, জনগণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের নাগরিকের সাহায্যও চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কোনও বেড়া নেই। তাই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে জনবিন্যাসের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে। তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না-থাকলেও আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই জনগণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’  পূর্বতন তৃণমূল সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি চৌকি এবং বেড়া বসানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি না দেওয়ায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘কী ভাবে লোক ঢুকেছে তা আপনারা টিভিতে দেখেছেন।’’


Share