NEET Paper Leak

‘দেশ বিরোধী শক্তি যাতে আর সুযোগ না পায়,’ ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, সামজমাধ‍্যমে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, তিনি ইস্তফাপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দ্রৌপদী মূর্মূ তা গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৭

ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দুপুরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পোষ্ট করেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, গত ১০ দিন ধরে ঘটে চলা ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছেন, দেশ বিরোধী শক্তি যাতে আর যাতে সুযোগ না পায় সেই কারণেই ইস্তফা দিচ্ছেন। শনিবার বিকেলে ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনার কথা রয়েছে। সেই আলোচনার দেড় ঘন্টা আগেই তিনি ইস্তফার কথা জানিয়ে দিলেন।

গত কয়েক দিন ধরে দিল্লি রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। এই তথাকথিত আন্দোলনের অন‍্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক আগেই অনশন ভেঙেছে। তার সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রীয় মনে জে পি নাড্ডার সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করেছেন। তাঁদের মূলত তিনটি দাবি ছিল। তার প্রথমেই ছিল— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। এই দুর্নীতির দায় তাঁরই। সেই দায় ধর্মেন্দ্রকেই নিতে হবে। বাকি দু’টি দাবি ছিল— আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও আইনানুগ পদক্ষেপ করা যাবে না এবং প্রশ্নফাঁস কান্ডে পরে যে ২২ জন আত্মঘাতী হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। শেষ দু’টি দাবি কেন্দ্র মেনে নিলেও প্রথম দাবি মানতে নারাজ ছিলেন তাঁরা।

ইস্তফার কথা ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের সমাজমাধ‍্যমে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গত দশ দিনের ঘটনা নিয়ে তিনি দুঃখিত। বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, গত চার দশক ধরে তিনি শিক্ষা, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সংস্কারের কাজ করেছেন। দেশ শক্তিশালী এবং দুরদর্শী শিক্ষা ব‍্যবস্থা ওপর নির্ভর করে বলেই তিনি মনে করেন। যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, ন‍্যায়সঙ্গত প্রত‍্যাশা এবং অনুভুতির প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, তিনি ইস্তফাপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দ্রৌপদী মূর্মূ তা গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।

বিজেপি সাংসদ জানিয়েছেন, গত ৩মে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তিনি কখনও নিজের দায় এড়িয়ে যাননি। বরং স্বীকার করেছিলেন। কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অন‍্যায় হতে দেবেন না বলেই সংকল্প নিয়েছিলেন। গত ১০ দিনে যন্তর মন্তর এবং দেশের বাকি অংশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ধর্মেন্দ্র ব‍্যথিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশ বিরোধী শক্তিগুলি যাতে আর সুযোগ না পায়, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে এবং কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না পড়েন তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইস্তফা ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পরে ২০ লক্ষ পড়ুয়ার পরীক্ষা যাতে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায় সেই দিকেই প্রচেষ্টা ছিল। সরকার গত ২১ জুন পুনরায় মেডিকেল প্রবেশিকা পরিক্ষা (নিট) সম্পন্ন করেছে। ১৬ জুলাই সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় সম্পন্ন করায় কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ‍্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের ভূমিকা থাকে। ইস্তফাপত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু ব‍্যক্তির ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ পড়ুয়াদের ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। তাঁরা বিভ্রান্ত করছে। এতে আমি ব‍্যথিত।”

চিঠির শেষে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে লিখেছেন, “দেশের সেবা করাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাতে আমি নিবেদিত থাকব। ভবিষ্যতেও দেশ, ওড়িশার জনগণ এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জন‍্য নিজেকে নিমজ্জিত করব।”


Share