TMC Political Crisis

‘আশা করছেন দশ হাজার লোকের জমায়েত হবে!’ শর্তসাপেক্ষে বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়ামের সভা করতে কালীঘাটের তৃণমূলকে অনুমতি দিল হাই কোর্ট

বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়ামের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আড়াই হাজারের বেশি জমায়েত করা যাবে না বলেও হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪২

আগামী ২১ জুলাই কালীঘাটের তৃণমূলের গোষ্ঠীকে সভা করতে অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়ামের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আড়াই হাজারের বেশি জমায়েত করা যাবে না বলেও হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়ামের সামনে রাস্তার একদিকে সভা করা যাবে। অন‍্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। বিচারপতির প্রশ্ন, সভায় ১০ হাজার জমায়েতে হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে।

আগামী ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাটের তৃণমূল গোষ্ঠী। তাঁদের দাবি, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তাঁরা এই সমাবেশ করতে চান। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পুলিশ বিকল্প হিসেবে ব্রিগেডে সমাবেশ করার পরামর্শ দিলেও কালীঘাটের তৃণমূল গোষ্ঠী তা নেয়নি। রাজ‍্য সরকার আদালতে জানিয়েছে, বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়ামের সামনে ৫০০ জনের বেশি জমায়েত হলে অসুবিধা হবে। তাই দু’হাজারের বেশি জমায়েত হলে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার করতে হবে। ১০ হাজার জমায়েত করতে হলে ব্রিগেডে করতে হবে। কালীঘাটের তৃণমূলের গোষ্ঠী সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নবান্নের সামনে এই অনুষ্ঠান করতে চান।

কল‍্যাণের সওয়ালের পাল্টা রাজ‍্য সরকার জানায়, “ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কর্মসূচি হত। সেখান থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার বেশি দূরে নয়। বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়াম বরং দূরে।” পাল্টা কল‍্যাণ জানান, “আমাদের ২০ হাজার জমায়েত হবে।” শুনেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “তাহলে ব্রিগেডে যান।”

কল‍্যাণের সওয়ালের পাল্টা রাজ‍্য সরকার জানায়, “ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কর্মসূচি হত। সেখান থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার বেশি দূরে নয়। বিড়লা প্ল‍্যানেটরিয়াম বরং দূরে।” পাল্টা কল‍্যাণ জানান, “আমাদের ২০ হাজার জমায়েত হবে।” শুনেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “তাহলে ব্রিগেডে যান।”

কল্যাণের দাবি, ব্রিগেডে এক লক্ষ লোকের কর্মসূচি হয়। গাঁধী মূর্তিতে যাঁরা কর্মসূচি করছেন, তাঁদের জন্য কোনও লোকসংখ্যা বেধে দেওয়া হয়নি। শহিদ মিনারে যাঁরা কর্মসূচি করছে, তাঁদেরও কোনও শর্ত বেধে দেওয়া হয়নি। তাহলে কেন তাঁদের ক্ষেত্রেই এই শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। রাজ‍্য জানায়, শহিদ মিনারে কংগ্রেস ১০ হাজার লোকের জমায়েতের জন‍্য আবেদন করেছে। গাঁধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের আরেক গোষ্ঠী ৭০০-৮০০ লোকের জমায়েত করবে বলে জানিয়েছে। কল‍্যাণ বলেন, “সামনেই পার্ক স্ট্রিট। তিন দিকে রাস্তা রয়েছে। ৫০০ লোকের জমায়েত হলে যানজট হবে। সেখানে ২০০ জনের বেশি জমায়েত করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”

এ সব যুক্তি শুনে শুনে বিচারপতি ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, আপনি নিশ্চিত যে আপনাদের কর্মসূচিতে ১০ হাজার লোক হবে? আপনারা সেই আশা করছেন? যদি দু’হাজার লোক হয় তবে ভেবে দেখতে পারি। কল্যাণের অনুরোধ, “আমাদের কর্মসূচিতে পাঁচ হাজারের কম লোকের অনুমতি দেবেন না।” যদিও রাজ্য আপত্তি জানিয়ে বলে, তিন হাজার লোক নিয়ে ওই জায়গায় কর্মসূচি করলে অসুবিধা হবে। তার পরই আদালত আড়াই হাজার লোকের অনুমতি দেয়।

কল্যাণকে উদ্দেশ করে বিচারপতি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে ওই কর্মসূচি করছেন ঠিকই। কিন্তু এখন পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। আপনাদের অন্য গোষ্ঠী কর্মসূচি করছে। ওই দিন তিনটি কর্মসূচি রয়েছে।” আদালত জানিয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত করা যাবে ওই কর্মসূচি। আদালত আরও জানায়, কালীঘাট তৃণমূলকে ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। অন্য দিকের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল নিশ্চিত করবেন ওই স্বেচ্ছাসেবকেরা।


Share