Kolkata Municipal Corporation

গত তিন-চার মাসে কলকাতার পুর পরিষেবা তৃণমূলের থেকেও খারাপ হয়েছে! কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে নাম না করে নিশানা বিজেপি বিধায়কের

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “রীতেশ হয়তো নির্দিষ্ট কোনও পকেটের বা এলাকার কথা বলছেন। আমি অবশ্যই তাঁর সাথে কথা বলব। প্রয়োজন হলে নিজে গিয়ে সেই জায়গাটি আরেক বার পরিদর্শন করব।”

(বাঁ দিক থেকে) পুরপ্রশাসক স্মিতা পান্ডে এবং বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৮

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও শহরের পুর পরিষেবা তৃণমূল জমানার চেয়েও খারাপ হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিলেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, পুরভবনে বসে শুধুমাত্র সাংবাদিক বৈঠক করলেই ডেঙ্গির মতো রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রবিবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে নাম না করে আক্রমণ করেন তিনি।

সম্প্রতি কলকাতা শহরে মশাবাহিত ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তা নিয়ে প্রাচারও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির বক্তব্য, জুনের শুরু থেকেই কাশীপুর এলাকার নোংরা-আবর্জনায় ভরা ৩০ টিরও বেশি পুকুর ও ডোবা পরিষ্কারের জন্য তিনি কলকাতা পুরসভারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, পরিবেশ ও নিকাশি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের (ডিজির) সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও আমলারা কোনও কার্যকরী পদক্ষেপই করেননি।

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ মনে করেন, কলকাতা পুরসভায় পুরসভার আধিকারিক এবং নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে সংঘাত রয়েছে। ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে উপরতলাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিধায়কের অভিযোগ, সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যখন কাশীপুর-বিটি রোড সংলগ্ন অঞ্চলে ডেঙ্গি পরিস্থিতি সশরীরে খতিয়ে দেখতে আসেন, তখন পুর আধিকারিকরা মন্ত্রীকে আসল উপদ্রুত এলাকাগুলি দেখানইনি। রীতেশ তিওয়ারির দাবি, মন্ত্রী যাতে মশার লার্ভা ও আবর্জনাভর্তি ডোবাগুলো যাতে দেখতে না পান, তার জন্য আধিকারিকেরা অত্যন্ত সুকৌশলে মাত্র ৫০ মিটারের একটি আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখা ‘বাছাই’ করা অঞ্চল ঘুরিয়ে মন্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেলেন।

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি যে কলকাতা পুরসভার বর্তমান পরিষেবা নিয়ে যে একেবারেই অসন্তুষ্ট তা-ও স্পষ্ট করেছেন। পুরসভার কমিশনার তথা পুরপ্রসাশক স্মিতা পান্ডেকে নাম না করে নিশানা করে বলেন, “গত ৩-৪ মাসে কলকাতা পুরসভার পরিষেবা বিগত তৃণমূল জমানার চেয়েও খারাপ রূপ ধারণ করেছে। শুধুমাত্র ফটোশুট করে বা পুরভবনে বসে বড় বড় প্রেস কনফারেন্স (সাংবাদিক বৈঠক) করে ডেঙ্গির মতো  পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় না।”

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আধিকারিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তার কারণ খন্ডন করতে গিয়ে মন্ত্রীর সাফাই, ওই এলাকাটিই (৬ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন অঞ্চল) কলকাতার সবথেকে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত এলাকা বা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “রীতেশ হয়তো নির্দিষ্ট কোনও পকেটের বা এলাকার কথা বলছেন। আমি অবশ্যই তাঁর সাথে কথা বলব। প্রয়োজন হলে নিজে গিয়ে সেই জায়গাটি আরেক বার পরিদর্শন করব।”

রাজ্যে ডেঙ্গির কারণে স্বাস্থ্য দফতর ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে। এই আবহে একই শাসকদলের মন্ত্রী ও বিধায়কের মধ্যে পুর প্রশাসনের কাজ নিয়ে এমন প্রকাশ্য টানাপোড়েন প্রমাণ করছে যে, বিজেপি সরকার পরিচালনায় এলেও পুরসভার আমলাদের কাজ করার ধরনে দল এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না।

তৃণমূল ক্ষমতাচ‍্যুত হওয়ার পরে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ক্ষোভের পেছনে আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধিদের দূরত্বের চিরাচরিত জটিলতা কাজ করছে। বর্তমানে পুরসভায় নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় বর্তমানে সাধারণ মানুষ যে কোনও নাগরিক এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার জন্য সরাসরি স্থানীয় বিধায়কের ওপরই নির্ভর করছেন।

অন‍্য দিকে, পুরসভা যে হেতু সরকারি প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে চলছে, তাই নিচুতলার আমলারা জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ বা অভাব-অভিযোগকে সঠিক ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। রীতেশ তিওয়ারির এই বিস্ফোরণ মূলত সেই অনমনীয় আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমন মন্তব্যের পরে তাঁর নিজের দলেরই সরকারের কাজের পদ্ধতিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

উৎসবের মরশুমে কলকাতা শহরে একাধিক রাস্তা ভেঙেচুড়ে একাকার। বৃষ্টির কারণে রাস্তা মেরামতির কাজ সম্পন্ন করা না গেলে মহালয়ার আগেই শহরের সমস্ত রাস্তা মেরামতি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। আগামীকাল, ৬ অক্টোবর সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। গতকাল রবিবার পর্যন্তও শহরের একাধিক রাস্তা মেরামতি না হওয়ারও ছবি দেখা সামনে এসেছে। কিন্তু পুর কমিশনার জানিয়েছিলেন তাঁদের কাছে রাস্তার গর্ত মেরামতি করার জন‍্য একাধিক গাড়ি রয়েছে। তাঁরা কাজ করেছে। যদিও সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই কবে রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ হয় সেটাই দেখার।


Share