Kakali Ghosh Dastidar

তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের, দুর্নীতি ও আরজি কর-সহ একাধিক ইস্যুতে তোপ

গত রবিবার, তৃণমূলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের একাংশকেও নিশানাও করেছিলেন। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৮:৪৯

নির্বাচনে ভরাডুবির পরে আরও বিদ্রোহী হলেন তৃণমূল সাংসদ। দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরেই তিনি ইস্তফা দিতেছেন। পাশাপাশি তিনি দলকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেছেন।

দলের সমস্ত পদ থেকে অব‍্যাহতি চেয়ে তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি। ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, চিঠিতে তিনি শিক্ষা, রেশন দুর্নীতি নিয়ে লিখেছেন। পাশাপাশি আরজি করে তরুণী চিকিৎসককের ধর্ষণ ও খুন নিয়েও লিখেছেন। তৃণমূল সাংসদ মনে করেন, আরজি কর মেডিকেলে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে ওঠা প্রশ্ন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও, কিছু দিন আগে এক মহিলা সাংসদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন আরেক দলীয় সাংসদ। তাঁকে ‘অশিক্ষিত’, ‘অভদ্র’ বলেও কাকলি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন বলে সূত্রের খবর। সেই সময় পদে ছিলেন কাকলি। তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো সত্ত্বেও সাংসদের ‘অভদ্র’, ‘অশালীন’ আচরণ বন্ধ করা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সহযোগিতাও না পেলে, পদে থাকার মানে হয় না। নাম না করে তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি মহিলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সনের পদে ইস্তফা দিয়েছেন। সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা চেয়ে সুব্রত বক্সীকে চিঠি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তা নিয়েও দলের সভাপতি সুব্রত বক্সিকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার উল্লেখ করেছেন।

তারপর বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। গত ১৪ মে, কালীঘাটে দলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে লোকসভার মুখ্যসচেতকের দায়িত্বে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরানো হয়। এর পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন, “৭৬ থেকে পরিচয়। ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

এর ১০ দিনের মধ্যেই গত রবিবার, তৃণমূলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের একাংশকেও নিশানাও করেছিলেন। মঙ্গলবার সোজা চলে গেলেন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে। যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।


Share