Abhishek Banarjee

'ডিজে' মামলায় ফের আদালতে অনুপস্থিত অভিষেক! তদন্তে ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের আর্জি সিআইডির

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ মানছেন না। যাতে তদন্ত বিলম্বিত হয় সেই জন্যই এমনটা করছেন।’’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৫

ডিজে মামলার তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ফের আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হল সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজিরা এড়াচ্ছেন।

বুধবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বিধাননগর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু এ দিনও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। আদালত চত্বরে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেন সিআইডি আধিকারিকেরা এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা। নির্ধারিত সময় পেরিয়েও অভিষেক হাজির না হওয়ায় সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, তদন্তকে শ্লথ করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ এড়িয়ে চলছেন তিনি। সিআইডি আদালতে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও একই অভিযোগ তোলে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ মানছেন না। যাতে তদন্ত বিলম্বিত হয় সেই জন্যই এমনটা করছেন।’’ এ অবস্থায় বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি উল্লেখ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী বিচারকের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আবেদন জানান।

বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্বে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ‘ডিজে’ মন্তব্য শোনা গিয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, ভোটে জয়ের পর ‘ডিজে বাজানোর’ মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষে হিংসায় উস্কানি দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ভোটের ফল ঘোষণার পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য বিধাননগর আদালতের দ্বারস্থ হয় সিআইডি। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। তবে ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, ‘ডিজে’ সংক্রান্ত বক্তব্য যে তাঁরই, তা তিনি অস্বীকার করছেন না। ফলে নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কোনও প্রয়োজন নেই। যদিও হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, তদন্তে কী প্রয়োজন আর কী প্রয়োজন নয়, সেই সিদ্ধান্ত তদন্তকারী সংস্থার। এ বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। পাশাপাশি মূল মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, সেখানে প্রয়োজনীয় আবেদন জানাতেও নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, এর আগে ৩০ জুন বিধাননগর আদালত অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সেদিন আদালতে হাজির হননি তিনি। বুধবার আদালতে সিআইডির আইনজীবীর দাবি, এই মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কণ্ঠস্বরের নমুনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অভিষেক ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তে সহযোগিতা করছেন না।


Share