TMC Political Crisis

অভিষেককে ঘিরে জোড়া অভিযোগে তোলপাড়! শমীকের ওপর হামলা থেকে সরকারি জমির মাটি ‘লুট’, দুই মামলায় তদন্তের নির্দেশ আদালতের

অন্য দিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিষেক-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় কৃষ্ণনগরের আদালত তদন্তের নির্দেশ দিল। বিচারক তরুণ মণ্ডল পুলিশকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

শমীক ভট্টাচার্য ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৩১

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। ফের জোড়া অভিযোগে নাম জড়াল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। ২০২০ সালের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দাস ওরফে ববি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্য দিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিষেক-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় কৃষ্ণনগরের আদালত তদন্তের নির্দেশ দিল। বিচারক তরুণ মণ্ডল পুলিশকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ববি ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি-কে প্রায় ১০ পাতার অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে শমীক এবং তাঁর সহযোগীদের উপর পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছিল। ববির দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই ওই হামলা চালানো হয়। অভিযোগপত্রে অভিষেকের অনুগামীদের ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও জাহাঙ্গির খান, সুমিত রায়, গৌতম অধিকারী, শামিম আহমেদ-সহ মোট ৭৮ জনের বিরুদ্ধে ববি অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ২০২০ সালের ওই ঘটনা ঘটেছিল স্রোতেরপোল এলাকায়। তবে হামলার সময় তিনি শমীকের গাড়িতে ছিলেন না এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও নন। খবর পেয়ে পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। ববি জানিয়েছেন, বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বিষ্ণুপুর থানায় জানানো হলেও পুলিশ তখন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে তাঁর অভিযোগ। এ বার তিনি নতুন করে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ববি।

অন্য দিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারি জমির মাটি কেটে বেআইনি ভাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণনগর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ এই অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লক এবং মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা সরকারি ও ‘ভেস্টেড’ জমি থেকে মাটি কেটে বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু মাটি নয়, ওই সরকারি জমিতে থাকা বহু মূল্যবান গাছও কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলাকারীর দাবি, পুরো ঘটনার নেপথ্যে অভিষেকের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও মদত রয়েছে। মাটি ও গাছ বেআইনি ভাবে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই মামলায় কালীগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ এবং দলের প্রাক্তন বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখের নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে মামলাকারী ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি, দিনের পর দিন সরকারি জমি থেকে বেআইনি ভাবে মাটি ও গাছ কাটার অভিযোগ জানিয়ে বন দফতর এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বরং মামলাকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, সমস্ত নথি ও যুক্তি খতিয়ে দেখার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আদালত পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মামলাকারী বাপন জানান, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি উদ্ধার এবং পরিবেশরক্ষার জন্য লড়াই করছেন। অবশেষে বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা ফিরে পেলেন। যদিও অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা দাবি করেছেন আলিফা। তাঁর অভিযোগ, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।


Share