Howrah Murder

হাওড়ার প্রোমোটারকে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক থেকে গুলি করে খুন! অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি স্থানীয়দের, ভোট বয়কটের ডাক

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহতের সঙ্গে এলাকার দুই দুষ্কৃতীর পুরনো বিবাদ ছিল। নিহত সফিকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা চেয়েছিল। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করায় এমন ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, “ওকে অনেকদিন ধরেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না দেওয়াতেই এই পরিণতি।”

তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পেছনে বসে অভিযুক্ত হারুন খান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৭

সাতসকালে হাওড়ার প্রোমোটারকে গুলি করে খুন। নিহত যুবকের নাম সফিক খান (২৭)। মুল অভিযুক্ত রহিত এবং হারুন খান পলাতক। স্থানীয়দের অভিযোগ, দু’জনেই হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দোষীরা গ্রেফতার নাহলে ভোট বয়কটের ডাক স্থানীয়দের।

বুধবার ভোরে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানায় ঘটনাটি ঘটেছে। সাড়ে ৪টের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, দুই ব্যক্তি হেঁটে এসে সফিকের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ, খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। রহিত এবং হারুন খান দু’জনেই সফিককে লক্ষ‍্য করে গুলি চালিয়েছে। এর পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে স্থানীয়েরা নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকেরা সফিককে মৃত বলে ঘোষণা করে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, সফিকের শরীরে একাধিক গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মল্লিকফটক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযুক্ত হারুন খান এবং রহিত হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। তাঁরা এলাকায় তোলাবাজি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয়ের কথায়, হারুন খান জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত। রহিত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির জন্য এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ, একাধিক বার এরা জেল খেটেছে। তার পরেও অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি কমেনি। স্থানীয় থানায় বার বার জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। ঘটনার পরে স্থানীয়েরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দোষীদের গ্রেফতার না করলে আগামী নির্বাচনে তাঁরা ভোট দেবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনার প্রেক্ষিতে এক বাসিন্দা বলেন, “এত কাছে থেকে এভাবে গুলি চলবে ভাবতেই পারিনি।”

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আরও দেখা গিয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তেরা তড়িঘড়ি না করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এলাকা ছাড়ছে। এই নিয়ে স্থানীয়েরা বলছে, তাঁদের মাথায় রাজনীতিবিদদের হাত না থাকলে এমনটা করার সাহস পেত না। এমন দৃশ্য ঘিরেই উঠেছে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এক বাসিন্দার কথায়, “যদি অপরাধীরা এত নির্ভয়ে চলে যেতে পারে, তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহতের সঙ্গে এলাকার দুই দুষ্কৃতীর পুরনো বিবাদ ছিল। নিহত সফিকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা চেয়েছিল। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করায় এমন ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, “ওকে অনেকদিন ধরেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না দেওয়াতেই এই পরিণতি।” যদিও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় তার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মিটিং-মিছিলে আমার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ যান। কে কী কাজে যুক্ত তা সব সময় জানা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এলাকা অশান্তিমুক্ত করা হবে। দুষ্কৃতীরা জেলে থাকবে।’’ জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, দুষ্কৃতীদের প্রশয় দেন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তিনি তো বলেন, আমি আমার বিধানসভা সাবাইকে চিনি। এখন ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অস্বীকার করছেন।”


Share