Supreme Court

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, তার আগেই এসআইআর মামলা শুনতে চাইলেন আইনজীবী, ৫ অক্টোবরেই শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, তালিকা অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটি শোনা হবে। যদিও তার পরের দিন, ৬ অক্টোবর, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৬

উপনির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, তালিকা অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটি শোনা হবে। যদিও তার পরের দিন, ৬ অক্টোবর, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। ওই দুই কেন্দ্রে ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন এখনও ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। ৬ অক্টোবরের আগে সেই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারেরা উপনির্বাচনেও ভোট দিতে পারবেন না।

বিধানসভা নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও যাতে ওই ভোটারেরা ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণেই মামলার আগাম শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় প্রথমে এই মামলার শুনানির দিন ২৯ সেপ্টেম্বর দেখানো হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে মামলাটি শোনা প্রয়োজন। এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘এগুলো স্রেফ উপনির্বাচন। আর কিছু নয়।’’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘‘হ্যাঁ, উপনির্বাচন। কিন্তু এই নিয়ে দ্বিতীয় বার এই মানুষগুলো ভোট দিতে পারবেন না। শেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী এই মামলার শুনানি আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। এটা পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর ঝুলে থাকা আবেদনগুলির মামলা।’’ তবে তাতেও শুনানির দিন এগিয়ে আনেননি প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘‘মামলা ৫ অক্টোবর শোনা হবে।’’

এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছিল। তথ্যগত অসঙ্গতি-সহ বিভিন্ন কারণে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তির দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালের হাতে দেওয়া হয়। নিজেদের বৈধ ভোটার দাবি করে বহু মানুষ সেখানে আবেদন করেছেন। কিছু আবেদনের নিষ্পত্তি হলেও অধিকাংশ এখনও বিচারাধীন। এই ভোটারদের বাদ রেখেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এসআইআর-সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানিয়েছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অর্থ ভোটাধিকার চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। ভোটাধিকার অটুট থাকবে। তবে বিচারাধীন ভোটারেরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।

ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ এখনও যে বিপুল সংখ্যক নামের আবেদন বিচারাধীন, সেগুলির নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। দেখা গিয়েছে, নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

ফলে ট্রাইবুনালের শুনানি দীর্ঘায়িত হলে বৈধ ভোটারেরাও একের পর এক নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন—এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে শুনানি এগিয়ে আনার সেই আবেদন গ্রহণ করলেন না প্রধান বিচারপতি। ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হবে।


Share