Atik Ahemad

জেলবন্দি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে মৃত আতিক আহমেদের ছেলে আবান-সহ দু’জন, জখম আরও তিন, অবস্থা আশঙ্কাজনক

গত কয়েক বছরে আতিকের পরিবারের একাধিক সদস্য হয় নিহত হয়েছে, নয়তো কারাগারে রয়েছেন, অথবা এখনও পলাতক। পরিবারের বাকি সদস্যরাও এখনও আইনি তদন্তের মুখোমুখি। আতীকের বড় ছেলে মহম্মদ ওমর এবং মহম্মদ আলি আহমেদ পৃথক অপরাধমূলক মামলায় জেলবন্দি রয়েছে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যু আতিক আহমেদের ছোট ছেলে আবান আহমেদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৫৬

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল উত্তরপ্রদেশে প্রাক্তন বিধায়ক-সাংসদ তথা গ‍্যাংস্টার আতিক আহমেদের আরেক ছেলের। মৃতের নাম আবান আহমেদ ও তার এক বন্ধু সোনুর। ঘটনায় আরও তিন জন গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জখমদের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

ঝাঁসীর পুলিশ সুপার বিবিজিটিএস মূর্তি জানিয়েছেন, গাড়িতে মোট পাঁচ জন ছিল। ঘটনাস্থলেই আবান আহমেদ-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন জন গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, আবান আহমেদ প্রয়াগরাজ থেকে ঝাঁসী যাচ্ছিল। তার জেলবন্দি ভাই আলি আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে গাড়িটি রাস্তার পাশে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ছিল ভয়াবহ ছিল যে গোটা গাড়িটি দুমড়েমুজড়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।আবান আহমেদ গ‍্যাংস্টার আতিক আহমেদের ছোট ছেলে।

খুন, অপহরণ, তোলাবাজি-সহ ১০০-টিরও বেশি অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত ছিল গ‍্যাংস্টার আতিক আহমেদ। গত ২০২৩ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএসপি বিধায়ক উমেশ পাল হত‍্যাকান্ডের প্রত‍্যক্ষদর্শী আইনজীবী উমেশ পাল ও তাঁর দুই দেহরক্ষীকে গুলি করে খুনের ঘটনায় আতিক আহমেদ ও তার গ‍্যাংয়ের নাম জড়িয়ে যায়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর আতিক ও তার আবানের বড় ভাই মহম্মদ আজমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

ওই বছরের ১৫ এপ্রিল আতিক আহমেদ ও তাঁর ছোট ভাই আশরাফ আহমেদকে প্রয়াগরাজ হাসপাতালে চিকিৎসার করাতে নিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দু’দিন আগে, ১৩ এপ্রিল ঝাঁসীতে আতিকের তৃতীয় পুত্র আশাদ আহমেদ উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এনকাউন্টারে নিকেশ হয়। ওই সংঘর্ষে আতিকের গ‍্যাংয়ের গুলাম বলে আরেক দুষ্কৃতী নিকেশ হয়। উমেশ পাল হত্যা মামলায় আশাদ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ছিল। আশাদের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।

গত কয়েক বছরে আতিকের পরিবারের একাধিক সদস্য হয় নিহত হয়েছে, নয়তো কারাগারে রয়েছেন, অথবা এখনও পলাতক। পরিবারের বাকি সদস্যরাও এখনও আইনি তদন্তের মুখোমুখি। আতীকের বড় ছেলে মহম্মদ ওমর এবং মহম্মদ আলি আহমেদ পৃথক অপরাধমূলক মামলায় জেলবন্দি রয়েছে। অন্য দিকে, উমেশ পাল হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত আতিকের স্ত্রী শায়েস্তা পারভিন এখনও পলাতক। এ ছাড়া, পরিবারের আরও কয়েক জন আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া বা পরিবারের কথিত অপরাধচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আবানের মৃত্যুর মাধ্যমে বিতর্কিত এই পরিবারের আরও এক সদস্যের এই পরিণতি ঘটল। এই ঘটনা আগের উত্তরপ্রদেশে একসময় ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী একটি সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ পতনের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


Share