Elephant Attack

জঙ্গলপথে কাজে যাওয়ার সময় বিপত্তি, হাতির হানায় মৃত্যু হল শ্রমিকের

ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া রেঞ্জের শালপাতড়া গ্রামে দাঁতাল হাতির হানায় মৃত্যু হলো ৪৭ বছরের শ্রমিক শেখ হারুণের। পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বন বিভাগ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৮

জঙ্গলপথে দ্রুত কাজে পৌঁছোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই তাড়াহুড়োই কাল হয়ে দাঁড়াল। শনিবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়া রেঞ্জের শালপাতড়া গ্রামে হাতির হানায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হল। মৃতের নাম শেখ হারুণ (৪৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলপাতড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ হারুণ প্রতিদিনের মতো সাইকেলে করে কাজে যাচ্ছিলেন। তিনি ঝাড়গ্রাম শহরে মালপত্র লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন। এ দিন সকালেও দেরি হয়ে যাওয়ায় জঙ্গলপথে দ্রুত পৌঁছোনোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কিছুটা এগোতেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায় একটি দাঁতাল হাতি। পালানোর চেষ্টা করলে হাতিটি শুঁড়ে তাঁকে তুলে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে ঝাড়গ্রাম বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করেন। পরে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে মেদিনীপুর বন বিভাগ-এর চাঁদড়া রেঞ্জ এলাকা থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে প্রায় ৪২টি হাতি মানিকপাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভোরে হাতিগুলি দলবদ্ধভাবে কুমারীর দিকে গেলেও তিনটি হাতি শালপাতড়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় চলে আসে। অনুমান, ওই তিনটি হাতির হানাতেই শেখ হারুণের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের পরিবারে স্ত্রী ও নবম শ্রেণির এক কন্যা রয়েছেন। পরিবারের দাবি, প্রতিদিনের মতোই হারুণ কাজে বেরিয়েছিলেন। তাঁর ভাইপো আবিদ আলি জানান, “কাকু প্রতিদিন সাইকেলে কাজে যান। আজও বেরিয়েছিলেন। রাস্তায় হাতির সামনে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।” ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমাম জানান, হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম মোতায়েন ছিল। গ্রামবাসীরাও তাঁকে জঙ্গলপথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।

এদিকে, জঙ্গলমহলে ক্রমবর্ধমান মানুষ-হাতি সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাতো। তাঁর দাবি, এই সমস্যা এখন জ্বলন্ত আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একযোগে উদ্যোগী হয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে, না হলে এ ধরনের ঘটনা রোখা কঠিন হবে।


Share