Murder Case

কুরুক্ষেত্রে স্বামীকে নৃশংস খুনের অভিযোগ স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে, দেহ বিকৃত করার পর ছাদ থেকে ঝাঁপের চেষ্টা অভিযুক্তের

অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী রাজেশের পেটে আঘাত করে তাঁর দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করার চেষ্টা করেন বিমলা দেবী। বাড়িওয়ালা ঘটনাটি দেখে ফেলায় আতঙ্কে তিনতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন অভিযুক্ত মহিলা।

নৃশংস খুন স্বামীকে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হরিয়ানা
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০১:২৫

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে স্বামীকে খুন করে দেহ বিকৃত করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীর পেটে আঘাত করে তাঁর দেহের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত মহিলা। পরে বাড়িওয়ালা ঘটনাটি দেখে ফেলায় আতঙ্কে তিনতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রাজেশ। উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা রাজেশ গত প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রী বিমলা দেবীকে নিয়ে কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় একটি জল সরবরাহকারী সংস্থায় তিনি কাজ করতেন।

ঘটনার দিন বিকেল ৫টা নাগাদ ওই দম্পতির ঘর থেকে নারীর মালিক রিঙ্কু চিৎকার ও ঝগড়ার শব্দ শুনতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি দ্রুত ছাদে যান। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজেশকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর পেটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাড়িওয়ালার দাবি, ওই সময় বিমলা দেবী রাজেশের বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরছিলেন।

বাড়ির মালিককে দেখতে পেয়েই মহিলা আতঙ্কে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই পুলিশি নজরদারিতে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ফরেনসিক দল সেখান থেকে বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অত্যন্ত ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে রাজেশের পেটে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত করা হয়েছিল। সেই আঘাতেই তাঁর অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে আসে। আরও চাঞ্চল্যকরভাবে, ময়নাতদন্তে রাজেশের যকৃতের বড় অংশ এবং ডান দিকের কিডনি পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি ছিল। বাড়ির মালিকের আরও অভিযোগ, বিমলা দেবী ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের কোনও সন্তানও ছিল না। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পারিবারিক অশান্তি, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অভিযুক্ত মহিলা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বয়ান, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের তথ্য খতিয়ে দেখেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।


Share