Narendra Modi

রাজ্য ভাগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’, স্কুল-কলেজে ইতিহাস চর্চার নির্দেশ নবান্নের

২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দিবস পালনের তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১১:৪১

দেশভাগের বেদনাময় ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গ বিভাজনের প্রেক্ষাপট নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আগামী ২০ অগস্ট ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অখণ্ড বাংলার বিধানসভায় রাজ্য ভাগের বিল গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দিবস পালনের তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। সূত্রের খবর, অনুষ্ঠান উপলক্ষে কলকাতায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে পুলিশ সুপার ও জেলা স্কুল পরিদর্শকরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দেশভাগের ইতিহাস, রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের ইতিহাসচর্চায় উৎসাহিত করতে পাঠাগার ও সংগ্রহশালা পরিদর্শনের মতো কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে দিবসটি পালন নিয়ে শিক্ষামহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল মনে করেন, দেশভাগ মূলত শোকের বিষয়। তাই এই দিনটিকে উদযাপনের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও সংযম বজায় রাখা উচিত। সরকারের তরফে ‘গৌরবজনক ইতিহাস’ প্রসঙ্গটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি বলেও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক বাপী প্রামাণিক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য বিভাজনের ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে সেই ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন।

যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলার স্কুল পরিদর্শকরা সরকারি নির্দেশিকা হাতে পাননি বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে প্রস্তুতিতে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও, নবান্নের নির্দেশ মেনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশভাগের মতো সংবেদনশীল ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিস্তর আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


Share