LPG

যুদ্ধের আঁচ গ্যাসের বাজারে, ৪২ হাজার টন এলপিজি নিয়ে কান্দলায় পৌঁছল ‘জগ বসন্ত’, স্বস্তির বার্তা কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, কুয়েত থেকে এলপিজি বোঝাই করে আসা এই জাহাজে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। গত সোমবার জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে এবং শুক্রবার ভোরে নিরাপদে বন্দরে নোঙর ফেলে।

গুজরাটে এসে পৌঁছেছে জগ বসন্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা, গুজরাট
  • শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০১:৩৫

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতে এলপিজি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি বহু গ্রাহকের অভিযোগ, বুকিং করার পরও সময়মতো সিলিন্ডার মিলছে না। এই অবস্থার মধ্যেই শুক্রবার ভোরে প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে ‘জগ বসন্ত’ জাহাজ গুজরাটের কান্দলা বন্দরে পৌঁছেছে।

কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশকুমার সিনহা জানিয়েছেন, কুয়েত থেকে এলপিজি বোঝাই করে আসা এই জাহাজে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। গত সোমবার জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে এবং শুক্রবার ভোরে নিরাপদে বন্দরে নোঙর ফেলে। তিনি আরও জানান, ‘পাইন গ্যাস’ নামে আর একটি এলপিজি-বাহী জাহাজ আগামী দু’দিনের মধ্যে ভারতে পৌঁছবে।

এর আগেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে আসে ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’। ১৬ মার্চ গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে ‘শিবালিক’ পৌঁছোয়, যাতে ছিল ৪৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্দরে পৌঁছয় ‘নন্দা দেবী’ জাহাজও।

ভারত এখনও জ্বালানির ক্ষেত্রে বড় অংশে আমদানি নির্ভর। দেশের মোট প্রয়োজনের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আসে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫০ শতাংশ এবং এলপিজির ৬০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় পেট্রল ও ডিজেলের বাজারে এখনও বড় প্রভাব পড়েনি।

যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবার কেন্দ্র সরকার দেশের জ্বালানি মজুত নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে আট লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় এক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পাশাপাশি আরও ৮০০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস আমদানির পথে রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের মজুতও রয়েছে প্রায় ৬০ দিনের জন্য।


Share