VB G RAMJi Act

মনরেগার বদলে আজ থেকে চালু ‘ভিবি-জি রামজি’, বছরে মিলবে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা

এর মাধ্যমে এতদিনের ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ (মনরেগা)-র পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গেও বুধবার থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩৪

আজ, বুধবার থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’ (ভিবি-জি রামজি)। এর মাধ্যমে এতদিনের ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ (মনরেগা)-র পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গেও বুধবার থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় দু'কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, আগে যেখানে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে এখন তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। ফলে যোগ্য প্রতিটি গ্রামীণ পরিবার বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

নতুন প্রকল্পের অর্থায়নে কেন্দ্র বহন করবে ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য দেবে ৪০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আট হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, আর রাজ্যের অংশ পাঁচ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে চালু হয়েছে ‘ডিবিটি-স্পর্শ’ (ডিরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফার) ব্যবস্থা।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্পে একাধিক ডিজিটাল ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ‘যুক্তধারা’ অ্যাপের মাধ্যমে ভৌগোলিক অবস্থান যাচাই, বায়োমেট্রিক ফেস-অথেন্টিকেটেড হাজিরা এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-ভিত্তিক নজরদারি চালু থাকবে। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট নিয়মে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায়ও থাকছে একাধিক নতুন বিধান। কাজের আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কর্মসংস্থান দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ না মিললে বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি না পৌঁছোলে ক্ষতিপূরণ মিলবে। কৃষিকাজের ব্যস্ত মৌসুমে শ্রমিকের সংকট এড়াতে ৬০ দিনের ‘নো-ওয়ার্ক পিরিয়ড’ রাখা হয়েছে।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্পকে ‘পিএম গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান’-এর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জীবিকা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা-সংক্রান্ত কাজে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা পরিষদ’, যার নেতৃত্বে থাকবেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী। এছাড়া মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্য স্তরের স্টিয়ারিং কমিটি পরিকল্পনা ও বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ের কাজ দেখবে। জেলা পর্যায়ে জেলাশাসক এবং মহকুমা স্তরে এসডিও-দের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অভিযোগ, প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ বহন করতে হবে, যা অনেক রাজ্যের পক্ষেই আর্থিকভাবে কঠিন। তাঁর মতে, এতে রাজ্যগুলির কোষাগারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


Share