Rape Case

ছাত্রীকে গণধর্ষণের গুজব ঘিরে তোলপাড় পঞ্জাবের লাভলি বিশ্ববিদ্যালয়, ভাঙচুর-আগ্নিসংযোগ, জাতীয় সড়ক অবরোধে দু'হাজার পড়ুয়া

তাঁদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তবে পুলিশের দাবি, গণধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ গুজব। এই বিষয়ে তাদের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।

পঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পঞ্জাব
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭

ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির ফাগওয়াড়া ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার রাতে বিক্ষোভে সামিল হন প্রায় দু'হাজার পড়ুয়া। তাঁদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তবে পুলিশের দাবি, গণধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ গুজব। এই বিষয়ে তাদের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হস্টেলের সামনে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া জড়ো হন। সমাজমাধ্যমে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই তাঁরা সেখানে জমায়েত হন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের একাংশের। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালান। পাথর ছুড়ে জানলার কাচ ভাঙা হয়। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এমনকী, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর পর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। ফলে ব্যাহত হয় যান চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

যদিও পুলিশ গণধর্ষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের কোনও ঘটনার অভিযোগ এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ‘কিছু সমাজবিরোধী’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভুল এবং ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর ওই রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। কপূরথালার সিনিয়র পুলিশ সুপার গৌরব তুরা জানিয়েছেন, জাতীয় সড়ক থেকে পড়ুয়াদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পড়ুয়াদের আলোচনা চলছে। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

পুলিশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের কাছে এক মহিলার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। তবে ওই ঘটনা নিয়ে পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। একই ভাবে, এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়েও এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তুরা। তাঁর কথায়, ‘‘কিছু পড়ুয়া দাবি করেছেন, এক ছাত্রী গণধর্ষিত হয়েছেন। যদিও আমরা এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাইনি। এই নিয়ে অভিযোগও পাইনি।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ওই কথিত নির্যাতিতার পরিচয়ও কেউ নিশ্চিত ভাবে জানাতে পারেননি।

অন্য দিকে, সমাজমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মী। যদিও এই দাবি নিয়েও পুলিশের তরফে এখনও কোনও তথ্য জানানো হয়নি। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোনিকা গুলাতি একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, গণধর্ষণ সংক্রান্ত যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে’ এই ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে যে তথ্য প্রকাশ করবে, শুধুমাত্র সেটিকেই গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন রেজিস্ট্রার।


Share