Donald Trump

ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা নীতিতে বড় ধাক্কা, এক লক্ষ ডলারের আবেদন ফি খারিজ করল আমেরিকার ফেডারেল আদালত, স্বস্তিতে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীরা

ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বিপুল অঙ্কের ফি বা নতুন কর কাঠামো কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ০২:৫০

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের আমেরিকার কাজের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক লাফে এক লক্ষ আমেরিকার ডলার করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবে বড়সড় ধাক্কা দিল আমেরিকার ফেডেরাল কোর্ট। ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বিপুল অঙ্কের ফি বা নতুন কর কাঠামো কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে আমেরিকার কর্মরত বা সেখানে কাজের পরিকল্পনা করা লক্ষ লক্ষ দক্ষ বিদেশি কর্মী, বিশেষ করে ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শুক্রবার আমেরিকার ফেডেরাল কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ভিসা নীতিকে বাতিল করে দেয়। এর আগে, গত ৮ জুন বোস্টনের ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ আপিলও এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসন একতরফাভাবে বিপুল পরিমাণ ফি ধার্য করেছে, যা আমেরিকার সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর পরিপন্থী।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয় আমেরিকার ২০টি অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়া-সহ ২০ জন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। বোস্টনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় তাঁদের যুক্তি ছিল, এই অস্বাভাবিক হারে ভিসা ফি বৃদ্ধি কার্যকর হলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং অন্যান্য কর্মী নিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এর ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতেও জরুরি চিকিৎসক ও দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ফি এক ধাক্কায় এক লক্ষ আমেরিকার ডলারে উন্নীত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের যুক্তি ছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। তবে ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রশাসন উচ্চতর আদালতে আপিল করবে।

আমেরিকার ফেডারেল আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে প্রবাসী ভারতীয় সমাজের পাশাপাশি একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা। এই সিদ্ধান্তের ফলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় প্রকৌশলী ও দক্ষ পেশাজীবীদের উপর সম্ভাব্য বিপুল আর্থিক বোঝা এবং মানসিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, আদালতের এই রায়ের ফলে আমেরিকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতও বড় ধরনের সংকটের হাত থেকে রক্ষা পেল বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।


Share