Uniform Civil Code

আগামী ২০২৯ সালের আগেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে, মুম্বই সফরে গিয়ে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

রবিবার মুম্বই সফরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে দুপুরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই তিনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২৬

আগামী ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত সমস্ত রাজ্যে এই আইন কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রবিবার মুম্বই সফরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে দুপুরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই তিনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, মুসলমান সম্প্রদায়ের মহিলাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তিন তালাক প্রথা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়ে গিয়েছে।

আগামী ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন হবে। দিল্লির মসনদে কে বসবে তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা বিজেপির উদ্দেশ্য। তাঁরা তাঁদের ঘোষণাপত্রেও উল্লেখ করেছিল। অন‍্য দিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণাপত্রেও এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তাই এ বার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার সময় এসেছে বলে নেতৃত্ব মনে করছে। শুধু এ রাজ‍্য নয়, ওড়িশা, বিহার-সহ যেকটি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে সেই সমস্ত রাজ্যে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। আবার এনডিএ জোটের শরিকেরা যে সমস্ত রাজ্যে সরকারে রয়েছে সেখানেও এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। এমন ২১টি রাজ‍্যে এই কার্যকর করার কথা রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন।

এ দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিন তালাক প্রথা বিলোপ, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় যে আমুল পরিবর্তন এসেছে তা উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তিন বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।”

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ,দিল্লি, মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহরে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা বিভিন্ন সময় ধরাও পড়েছে। আবার এ দেশে এসে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “তাদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কী কী পদ্ধতি মানা হচ্ছে তা সরকার প্রকাশ করবে না। কারণ তা জানানো হলে অভিযুক্তরা সেই পদ্ধতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে দেশ থেকে তাড়ানো হবে।”

জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। তার জন্য রক্ত ঝড়েনি। গুলি চালানোরও প্রয়োজন হয়নি। জম্মু ও কাশ্মীর এখন ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে একীভূত। সরকার পাঁচ দশকের ধরে চলা নকশালবাদকে শেষ করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৪টিরও বেশি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।” সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শাহ জানান, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রমাণ দিয়েছে।

এ ছাড়াও, মণিপুরে ন্যাশনাল জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) চালু করা নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র তার সহযোগী দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


Share