National Investigation Agency

চার্জশিট থেকে সন্ত্রাস দমন আইনের ধারা বাদ! মায়ানমারে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় গ্রেফতার হয়েছিল সাত বিদেশি নাগরিক, এনআইএয়ের তদন্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এনআইএয়ের আইনজীবী রাহুল ত্যাগী জানান, এই চার্জশিটে দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন আইনের কোনও ধারা প্রয়োগ করা হয়নি। তবে ওই আইনের অধীনে সংঘটিত হওয়া অপরাধের তদন্ত এখনও চালছে। সেক্ষেত্রে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। আইনজীবী রাহুল ত‍্যাগীর বক্তব্য, এই আইনের তদন্তে অধীনে কোনও অপরাধের প্রমাণ যদি মেলে তা হলে পরবর্তীতে একটি অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হতে পারে।

ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৮

মায়ানমারে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে সাত বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল। দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমনের আইন (ইউএপিএ)-এর ধারায় তাদের গ্রেফতার করেছিল। মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। সূত্রের খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন আইনের ধারায় অভিযোগ আনা হয়নি। তবে মামলার তদন্ত চলছে বলে এনআইএয়ের আইনজীবী দাবি করেছেন। এমন চার্জশিট দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ধৃতদের নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক, হুরবা পেত্রো, স্লিভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হোনচারুক ম্যাক্সিম এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে এনআইএ গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক আমেরিকার বাসিন্দা। হুরবা পেত্রো, স্লিভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হোনচারুক ম্যাক্সিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর ইউক্রেনের বাসিন্দা। ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক-কে গত মার্চ মাসে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ইউক্রেনের নাগরিকদের দিল্লি এবং লখনউ বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ধৃতেরা দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন আইনের ১৮ নম্বর ধারায় গ্রেফতার হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এই সাত আমেরিকা এবং ইউক্রেনের নাগরিক বেআইনি ভাবে মিজোরামে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে চলে যায়। সেখানে অভিযুক্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই সমস্ত গোষ্ঠী ভারতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সমর্থন করে। ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী আবার মায়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে।

গ্রেফতারির পরে আদালতকে এনআইএয়ে জানিয়েছিল, ধৃতেরা মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের ড্রোন যুদ্ধ, ড্রোন পরিচালনা এবং ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ও জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। অভিযুক্ত আমেরিকার নাগরিক ভ‍্যানডাইক এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মায়ানমারে একটি যাত্রীবাহী বিমানকে নিশানা করার জন্য সরঞ্জাম প্রস্তুত ও একত্রিত করার অভিযোগও এনেছিল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এ-ও দাবি করে, তাদের সঙ্গে ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। সেই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা একে-৪৭ রাইফেল বহন করত বলে এনআইএ অভিযোগ করেছিল।

মঙ্গলবার দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালতে ধৃতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, চার্জশিট থেকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমনের ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে শুধু মাত্র ইমিগ্রেশন এবং ফরেনার্স আইনের ২১ ও ২৩ নম্বর ধারা দেওয়া হয়েছে। এই দুই ধারাতেই ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস স্তরে মামলার নিষ্পত্তি করা যাবে। যার মাধ্যমে জরিমানা বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগে ধৃতদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন আইন চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ায় এনআইয়ের তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন স্তর থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এ দিন এনআইএয়ের আইনজীবী রাহুল ত্যাগী জানান, এই চার্জশিটে দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন আইনের কোনও ধারা প্রয়োগ করা হয়নি। তবে ওই আইনের অধীনে সংঘটিত হওয়া অপরাধের তদন্ত এখনও চালছে। সেক্ষেত্রে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। আইনজীবী রাহুল ত‍্যাগীর বক্তব্য, এই আইনের তদন্তে অধীনে কোনও অপরাধের প্রমাণ যদি মেলে তা হলে পরবর্তীতে একটি অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হতে পারে।

এনআইয়ের চার্জশিট নিয়ে ভ্যানডাইকের আইনজীবীদের বক্তব্য, তাঁদের মক্কেলকে দীর্ঘদিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনজীবী রোহিত দান্দ্রিয়াল বলেন, “এনআইএ আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনেছিল। অথচ ছ’মাস পর তারা এমন একটি চার্জশিট পেশ করেছে, যেখান এই আইনের অধীনে অভিযোগ আনার মতো প্রমাণ তারা পায়নি।” এনআইএয়ের তদন্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন রোহিত।

ধৃত ইউক্রেনের নাগরিকদের আইনজীবী নীতিন সালুজা আদালতে জানান, তিনি শুরু থেকেই তাঁর মক্কেলদের নির্দোষতার কথা বলে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে ইউএপিয়ের ধারা না থাকায় সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে বাজেয়াপ্ত করা তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে কেন্দ্রীয় সংস্থা দাবি, ধৃতদের মোবাইল ফোনগুলি কেন্দ্রীয় সংস্থা সার্ট-ইন (ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তথ‍্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এই সংস্থাটি সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় কাজ করে।

কয়েক দিন আগে ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইকের পরিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। তাদের দাবি ছিল, ভ্যানডাইককে মুক্ত করার জন্য যাতে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করে। ভ্যানডাইকের মা শ্যারন ভ্যানডাইক সমাজমাধ‍্যমে দাবি করে বলেন, “এটি আমাদের পরিবারের জরুরি পরিস্থিতি। ম্যাথিউ তার জীবন সংকটে থাকা মানুষদের সহায়তা করার কাজে উৎসর্গ করেছে। সে একেবারেই নির্দোষ। আমরা আমেরিকার সরকারের কাছে তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানাচ্ছি।”


Share