Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালীর কাছে পর পর দুই জাহাজে হামলা, নিখোঁজ ২ ভারতীয় নাবিক

অন্য একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিশানা করার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫২

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আঁচ এ বার সমুদ্রপথেও। হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় পর পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। রবিবার, ১১ অক্টোবরের এই ঘটনায় একটি তেলবাহী জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জন নিখোঁজ। বাকি ন’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিশানা করার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সংঘাত কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উপর জোর দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ওমানের সোহর বন্দরের কাছে নোঙর করা ছিল নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। অভিযোগ, ১১ অক্টোবর জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়। তার পর থেকেই দু’জন নাবিকের খোঁজ মিলছে না। বাকি ন’জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী।

একই দিনে ‘এমটি ভালথেরা’ নামে আরও একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ওই জাহাজে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি বস্তু আঘাত হানে বলে খবর। এর জেরে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে ওমানের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে মাসকটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার ও তল্লাশির কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান পাওয়াই এখন ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে অশান্ত পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল-সহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহণ করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা প্রশমনের উপর জোর দিচ্ছে ভারত। তবে পর পর দুটি জাহাজে হামলা এবং দুই ভারতীয় নাবিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সমুদ্রপথে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই।


Share