Tiger Death

অভয়ারণ্য লাগোয়া এলাকায় জোড়া ঘটনা, কনস্টেবলের মৃত্যু ও বাঘিনীর নিথর দেহে তোলপাড় অরুণাচল

গত সোমবার সন্ধ্যায় অরুণাচল প্রদেশ পুলিশের হেড কনস্টেবল চিকসেং মানপুং মোটরবাইকে যাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণের শিকার হন। পরদিন সকালে মেহাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অরুণাচল প্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫২

অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার দিবাং ভ্যালি জেলায় বাঘের আক্রমণে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর দু’দিনের মধ্যেই একটি বাঘিনীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে। মায়োদিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বাঘিনীর শরীরে গুলির ক্ষত মিলেছে। একদিকে বন্যপ্রাণীর হামলায় মানুষের মৃত্যু, অন্যদিকে তার পরপরই একটি বাঘের অস্বাভাবিক মৃত্যু এই জোড়া ঘটনায় বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় অরুণাচল প্রদেশ পুলিশের হেড কনস্টেবল চিকসেং মানপুং মোটরবাইকে যাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণের শিকার হন। পরদিন সকালে মেহাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে ওই রাস্তায় রাতের বেলা যাতায়াত, বিশেষ করে দু’চাকার গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এরই মধ্যে শুক্রবার মায়োদিয়া এলাকা থেকে একটি কমবয়সী স্ত্রী বাঘের দেহ উদ্ধার হয়। বন দফতরের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, বাঘিনীটির শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। তবে এই বাঘিনীটিই পুলিশকর্মীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।

পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জঙ্গল ধ্বংস এবং বাসস্থান সংকটের কারণেই বাঘেরা লোকালয়ে চলে আসছে, আর মানুষ-প্রাণীর সংঘাত বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। বাঘটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে আটকানোর চেষ্টা করা যেত বলেও মত তাঁদের। পাশাপাশি বাঘিনীটির মৃত্যুর পেছনে আত্মরক্ষা নাকি প্রতিহিংসামূলক শিকার কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ইতিমধ্যে লোয়ার দিবাং ভ্যালি জেলা প্রশাসন এবং বন দফতর যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশও খতিয়ে দেখছে, কোনও চোরাশিকারি চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না। আপাতত মেহাও অভয়ারণ্য সংলগ্ন এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।


Share