ED Raid

পশ্চিমবঙ্গের স্মৃতি ফিরল পঞ্জাবে, ইডি দুয়ারে পৌঁছোতেই বহুতল থেকে ছুড়ে ফেলা হল টাকা ভর্তি ব্যাগ

বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্জাবের মোহালি জেলার খরারের কাছে ইডির আধিকারিকের পৌঁছে যান। ওই জেলার চজ্জু মজরা এলাকার সেক্টর ১২৭-এর ওয়েস্টার্ন টাওয়ার্সের ফ্ল্যাট নম্বর ৯০৬-এ নীতিন গোহাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়।

এই আবাসনেই তল্লাশির সময় ঘটনাটি ঘটেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পঞ্জাব
  • শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৮:২৭

পশ্চিমবঙ্গের স্মৃতি ফিরল পঞ্জাবে। আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে অভিযুক্তের বাড়িতে ইডি পৌঁছোতেই বুহুতল থেকে টাকা ভর্তি ব‍্যাগ ফেলে দেওয়া হল। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান-এর ঘনিষ্ঠ ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির আধিকারিকে তল্লাশি অভিযানে যান। সেই সময়ই এমন ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্জাবের মোহালি জেলার খরারের কাছে ইডির আধিকারিকের পৌঁছে যান। ওই জেলার চজ্জু মজরা এলাকার সেক্টর ১২৭-এর ওয়েস্টার্ন টাওয়ার্সের ফ্ল্যাট নম্বর ৯০৬-এ নীতিন গোহাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। ইডি সূত্রের দাবি, গোহাল পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান-এর ঘনিষ্ঠ ব‍্যবসায়ী। সেই তল্লাশি অভিযানের সময় বহুতলের থেকে নগদভর্তি দু’টি ব্যাগ ছুড়ে ফেলা হয়। সকালের হাঁটতে বেরোনো কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা আবাসনের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা টাকা দেখতে পান। তার পরে তাঁরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে ইডি আধিকারিকেরা ব্যাগ দু’টি বাজেয়াপ্ত করেন। তাতে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা নগদ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালান।

এমন ঘটনার পরেই পশ্চিমবঙ্গের স্মৃতি ফিরে এল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত ২০২৩ সালে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে সিবিআই আধিকারিকেরা যান। সেই সময় তিনি বাড়ির জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেন। দু’দিন ধরে পুকুরের জল সরিয়ে তা উদ্ধার করা হয়। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরে আবার জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা যায়। গত ২০২৫ সালে ইডির আধিকারিকেরা জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে তল্লাশিতে গেলে বাড়ির উঁচু পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। রাস্তায় ঝাঁপ দিয়ে কাদা মাখেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। তাঁকে পাকড়াও করে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পঞ্জাবের এই ঘটনার পরে পশ্চিমবঙ্গের স্মৃতি ফিরে এল বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ দিন ইডির আধিকারিকেরা চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১৬ এবং পটিয়ালাতেও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এ ছাড়াও, মোহালিতে বীর দেবীন্দর সিংহের বাড়িতেও ইডি অভিযান চালায়। দেবীন্দরও আম আদমি পার্টি নেতার ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, শিল্প জমির অপব্যবহার এবং রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত অর্থ পাচারের অভিযোগে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। এই মামলার তদন্তে পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ইডির ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। গত মাসে কেন্দ্রীয় সংস্থা সঞ্জীব অরোরার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঠিকানায় ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর আওতায় তল্লাশি চালায়।

এর কয়েক দিন আগেই অশোক মিত্তলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঠিকানায় ইডির আধিকারিকেরা অভিযান চালায়। তিনি লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত। পঞ্জাব এবং হরিয়ানার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সম্পত্তিতে FEMA আইনের ভিত্তিতে তদন্ত চলে।


Share