Donald Trump

রাশিয়ার তেল কিনলেই ৫০০% শুল্কের হুঁশিয়ারি, শেষমেশ পিছু হটলেন ট্রাম্প! আপাতত স্বস্তিতে ভারত-চিন

জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের জারি করা নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৫

রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর বিপুল শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের জারি করা নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের উদ্যোগে পাশ হওয়া ‘গ্রাহাম আইন’-এ ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখলে ভারত ও চিনের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপরেও বিপুল শুল্ক চাপানোর সংস্থান ছিল।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর শুল্কের হার প্রায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে রাশিয়া থেকে ফের জ্বালানি আমদানির চুক্তি করলে শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে আপাতত এই শুল্ক ও বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় তেল কেনার ক্ষেত্রে আমেরিকার চাপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব ছিল নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতেই এই আমদানির সিদ্ধান্ত। একই অবস্থান নিয়েছিল চিনও। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আপাতত বড়সড় অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা থেকে রেহাই পেল ভারত ও চিনের মতো দেশগুলি।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমেরিকাতেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করা হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। তার প্রভাব পড়তে পারত আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। বিশেষত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আমেরিকার রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে চাপে রাখার লক্ষ্যে কংগ্রেসের উদ্যোগকে এই সিদ্ধান্ত দুর্বল করে দিতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ ডন বেয়ার।

যদিও হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হবে। রাশিয়ার তেলের বাজার এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট দেবেন আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। প্রশাসন পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আপাতত এই ছাড় কার্যকর থাকবে।


Share