Russian Oil

রাশিয়ার তেল কিনলেই ভারতের উপর ১০০% শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! ম্যানিলায় মোদীর সঙ্গে বৈঠকে কি কাটবে বাণিজ্যিক টানাপড়েন?

বৈঠক হলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ, প্রস্তাবিত শুল্ক এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১০

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপরে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি আমেরিকার। এই আবহে আগামী মাসে ফিলিপিন্সের ম্যানিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে। ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর ম্যানিলায় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা দুই নেতারই। তাঁদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বৈঠক হলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ, প্রস্তাবিত শুল্ক এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে রাশিয়ার তেল। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর উপরে চাপ বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। সেই কৌশলের অংশ হিসাবেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুযোগ রাখছে আমেরিকা। সদ্য পাশ হওয়া রাশিয়া ও ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আইনের আওতায় রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের পণ্যের উপরে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পেতে পারেন ট্রাম্প।

ভারতের উদ্বেগ, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ভারতের রফতানি বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরতে পারেন মোদী। নয়াদিল্লির লক্ষ্য, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বোঝানো এবং শুল্কের ক্ষেত্রে ছাড় আদায় করা।

আমেরিকার চাপের মধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়েছে ভারত। চলতি বছরের অগস্টে রাশিয়া থেকে ভারতের দৈনিক তেল আমদানির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ১৬.৫ শতাংশ কমে প্রায় ২১ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছিল। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ।

আমদানি কমার ফলে আমেরিকার প্রস্তাবিত শুল্কের আওতা থেকে ভারত শেষ পর্যন্ত বাদ পড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র তেল আমদানি কমলেই যে শুল্কের ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শুল্কের চাপের পাশাপাশি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিও সম্ভাব্য বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ আলোচনার পরে চুক্তির প্রথম পর্যায়ের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এখন আইনি নথিপত্র তৈরির কাজ চলছে। তবে চুক্তি কার্যকর করার আগে মার্কিন শুল্কনীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চাইছে দিল্লি।

ভারতের বক্তব্য, চুক্তিতে এমন সুবিধা থাকতে হবে যাতে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় রফতানিকারকেরা পিছিয়ে না পড়েন। বিশেষ করে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য স্থায়ী ও প্রতিযোগিতামূলক শুল্কহার নিশ্চিত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

সব মিলিয়ে, ম্যানিলায় সম্ভাব্য মোদী-ট্রাম্প বৈঠক ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এক দিকে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ, অন্য দিকে বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ। দুই ইস্যুতেই দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই বৈঠকে। তবে কূটনৈতিক আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কতটা সুরাহা হয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। 


Share