Chandrayan 2

সাত বছর পর চন্দ্রযান-২-এর বড় সাফল্য, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মিলল জমাট জলের হদিশ

সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, চাঁদের মাটিতে থাকা একাধিক গভীর গর্তের ভেতর বরফ জমে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই বরফের নীচেই থাকতে পারে বিপুল পরিমাণ জল।

চাঁদের মাটিতে মিলল জলের হদিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৫:৩৮

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় নতুন চমক এনে দিল ভারত। ২০১৯ সালে উৎক্ষেপণ করা চন্দ্রযান-২ মিশনের হাত ধরে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল বরফ ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে বলে দাবি ইসরোর। সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, চাঁদের মাটিতে থাকা একাধিক গভীর গর্তের ভেতর বরফ জমে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই বরফের নীচেই থাকতে পারে বিপুল পরিমাণ জল।

ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কিছু অংশে সূর্যের আলো কখনও পৌঁছোয় না। ফলে সেখানে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ২৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এমন পরিবেশে জল বরফ হিসেবেই কোটি কোটি বছর ধরে জমে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একসময় ‘ব্যর্থ’ বলে সমালোচিত হয়েছিল চন্দ্রযান-২ মিশন। যদিও পরে চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণ ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আর এবার, অবতরণের প্রায় সাত বছর পর চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারই এনে দিল ঐতিহাসিক তথ্য। জানা গিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রায় ১.১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বরফে ঢাকা গর্তের অস্তিত্ব মিলেছে। সেই গর্তের ছবিও পাঠিয়েছে অরবিটার।

কয়েক মাস আগেই চন্দ্রযান-২ মেরু অঞ্চলের জমাট বরফ ও মৃত্তিকার কিছু ছবি ইসরোর কন্ট্রোল রুমে পাঠিয়েছিল। তবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর দুর্গম ও অসমান ভূপ্রকৃতির কারণে সেখানে জল বা বরফের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সহজ ছিল না। ২০১৯ সালে অবতরণের সময় ল্যান্ডার ভেঙে পড়লেও অরবিটার ও রাডার এখনও সক্রিয় রয়েছে। সেই রাডারের সাহায্যেই ধরা পড়েছে বরফঢাকা গর্তের ছবি।

বিজ্ঞানীদের দাবি, গর্তের ভেতরে তোলা ছবিতে চন্দ্রযানের প্রতিবিম্বও দেখা গিয়েছে। সেখান থেকেই অনুমান, গর্তগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বরফ জমে রয়েছে। ইসরোর গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার ৪০০টি রাডার পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদের দুই গোলার্ধ সম্পর্কেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এর মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের গঠন, রুক্ষতা এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা মিলছে। ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনায় চন্দ্রযান-২-এর এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে বিজ্ঞানীমহল।


Share