TMC Political Crisis

২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করতে হবে, লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক

অভিষেকের অভিযোগ, “এই দলে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা বিজেপির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন (দলত‍্যাগ বিরোধী আইন) মুভ করেছি।”

লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১০:২৬

২০ জন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা দলের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। এখন তাঁরা তৃণমূলের আর কেউ নয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করতে হবে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরে এমনটাই জানালেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে যান তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন, মহুয়া মৈত্র, কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সৌগত রায় ছিলেন। অভিষেকের নেতৃত্বে ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁরা সাক্ষাৎ করেন। কাকলী ঘোষ দস্তিদার-সহ যে ২০ জন লোকসভার সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। স্পিকারের সাংসদেরা এক ঘন্টার একটি বেশি সময় নিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ।

এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে এনসিপিআই নামক একটি দলে তাঁরা নাম লিখিয়েছেন। এই দলের কথা আজ পর্যন্ত কেউ শোনেনি।” অভিষেকের অভিযোগ, “এই দলে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা বিজেপির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন (দলত‍্যাগ বিরোধী আইন) মুভ করেছি।”

আলাদা করে প্রতিজন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার দাবি তিনি জানিয়েছেন। অভিষেকের দাবি, সংবিধানের দশম তফসিলের ২(এ) এবং ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যাই বা প্রতিনিধি হিসেবে কোনও দলের আমি সদস্যপদ ছেড়ে দিই তাহলে আমার সাংসদদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে। যদিও সংবিধান অনুযায়ী, কোনও দল তাঁদের দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ভিত্তিতে সদস্যপদ খারিজের দাবি জানায়, তাহলে হলফনামা লোকসভা বা রাজ্যসভার স্পিকারের কাছে দিতে হয়। সেই বিষয়ে এক এবং একমাত্র সিদ্ধান্ত স্পিকারই নেবেন।

আত্মপক্ষ সমর্থন করার সময় অভিষেকের বক্তব্য, এখানে দুই তৃতীয়াংশের কথা বলা হচ্ছে। যার অর্থ, ২৮ বা ২৯ জনের মধ্যে যদি সবাই চলে যায় তাহলেও সেটাকে ‘মার্জার’ হিসেবে ধরা যায় না। ‘মার্জ’ করতে গেলে কোনও রাজনৈতিক দলের দুই তৃতীয়াংশের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে। তাঁর দাবি, এটা সংবিধানে লেখা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু শীর্ষ আদালতের রায়ও রয়েছে। এই দলত‍্যাগ বিরোধী আইনের হলফনামার সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা তা জমা দিয়েছেন বলেও জানান অভিষেক।

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা বলেছি, এদেরকে ডিসকোয়ালিফাই (সদস্যপদ বাতিল) করতে হবে। যে পৃথক ব্লকের কথা বলা হয়েছে, তা বলে কিছু হয় না। তাই পৃথক চিফ হুইপ, দলনেতা বলে কিছু হয় না।” বিদ্রোহীদের কটাক্ষ করে তিনি সংযোজন করেন, “তাঁদের সংবিধানটা পড়া প্রয়োজন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় (একাধিক) রয়েছে দলের দুই তৃতীয়াংশ একত্রিত না হলে সেটা ‘মার্জ’ হয় না।”


Share